- ১০ মাসে এডিপি বাস্তবায়ন নেমেছে ৪১.৪১ শতাংশে
- ঋণ পরিশোধ বেড়েছে সাড়ে ৮ শতাংশ
- বৈদেশিক ঋণ প্রতিশ্রুতি কমেছে ১৭ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা
- ১০ মাসে ঋণ পরিশোধ হয়েছে ৩৮০ কোটি ডলার
- দুই মাসে আরও ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের চাপ
- বিশ্বব্যাংক সবচেয়ে বেশি ৮৩ কোটি, এডিবির ৭১ কোটি ডলার, রাশিয়া ৮২ কোটি, চীন ৫৩ কোটি, ভারত ২৫ কোটি ও জাপানের ঋণ ছাড় ৪২ কোটি ডলার
- সরকার ৩.২ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা চেয়েছে- এআইআইবি- ২৫০ মিলিয়ন, এডিবি দিচ্ছে ১ বিলিয়ন, ওপেক ফান্ড ১০০ মিলিয়ন, জাপান দিচ্ছে ৩১৫ মিলিয়ন
রাজস্ব ঘাটতি, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং বৈদেশিক ঋণ প্রবাহ কমে যাওয়ায় বহুমুখী অর্থনৈতিক চাপে পড়েছে সরকার। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে একদিকে যেমন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, অন্যদিকে বৈদেশিক ঋণ ছাড় ও নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতিও কমেছে। একই সময়ে বেড়েছে বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ। ফলে উন্নয়ন ব্যয়, বাজেট ব্যবস্থাপনা এবং বৈদেশিক অর্থায়ন নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে অর্থনৈতিক অঙ্গনে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দুর্বলতা, প্রশাসনিক ধীরগতি এবং বৈদেশিক অর্থায়ন ব্যবহারে অদক্ষতা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে বৈদেশিক ঋণ ছাড় নেমে এসেছে ৪২৩ কোটি ডলারে। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৫১৬ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ঋণ ছাড় কমেছে প্রায় ৯২ দশমিক ৭ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১১ হাজার ৩৭২ কোটি টাকার সমান। একই সময়ে নতুন বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতিও কমেছে। চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮০ কোটি ডলারে, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ৪২৫ কোটি ডলার। অর্থাৎ প্রতিশ্রুতি কমেছে প্রায় ১৪৫ কোটি ডলার বা প্রায় ১৭ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বৈদেশিক ঋণ ছাড় কমে যাওয়ার অর্থ হলো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না। কারণ সাধারণত প্রকল্পের অগ্রগতির ভিত্তিতেই উন্নয়ন সহযোগীরা অর্থ ছাড় করে থাকে। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে বিদেশি অর্থ ছাড়ও আটকে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে।
আইএমইডির সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার নেমে এসেছে মাত্র ৪১ দশমিক ৪১ শতাংশে। জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে উন্নয়ন খাতে ব্যয় হয়েছে ৮৬ হাজার ৫১৬ কোটি টাকা। অথচ সংশোধিত এডিপির আকার ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ অর্থবছরের বাকি দুই মাসে এখনও প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের চাপ রয়ে গেছে সরকারের ওপর। বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবতা বিবেচনায় এত বড় অঙ্কের অর্থ দুই মাসে কার্যকরভাবে ব্যয় করা প্রায় অসম্ভব।
গত অর্থবছরের একই সময়ে উন্নয়ন ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৯৩ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এবার ব্যয় কমেছে প্রায় ৮ হাজার ৯২ কোটি টাকা। উন্নয়ন ব্যয়ের এই নিম্নমুখী প্রবণতা শুধু প্রশাসনিক ধীরগতিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে না, বরং অর্থনীতির সামগ্রিক স্থবিরতারও প্রতিফলন ঘটাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে ঋণ ছাড় কমলেও ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ছে। ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮০ কোটি ডলারে। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৩৫০ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ঋণ পরিশোধ বেড়েছে প্রায় ৩০ কোটি ডলার। এর মধ্যে মূল ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে ২৪৬ কোটি ডলার এবং সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে ১৩৩ কোটি ডলার।
ইআরডির কর্মকর্তারা বলছেন, বৈদেশিক ঋণ ছাড় কমে যাওয়ার পেছনে মূলত দুটি বড় কারণ কাজ করছে। প্রথমত, দীর্ঘদিন ধরেই দেশের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে। প্রকল্প অনুমোদনের পর বাস্তবায়নে বিলম্ব, জমি অধিগ্রহণ জটিলতা, দরপত্র প্রক্রিয়ার ধীরগতি এবং প্রশাসনিক জটিলতা উন্নয়ন ব্যয়কে বাধাগ্রস্ত করছে। দ্বিতীয়ত, সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনের একটি বড় অংশ নির্বাচনকেন্দ্রিক বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকায় প্রকল্প বাস্তবায়নে মনোযোগ কমেছে। এতে বিদেশি অর্থায়ন ব্যবহারের গতি আরও ধীর হয়ে পড়ে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় নতুন অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অন্তত ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের বাজেট সহায়তা পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি। এখন পর্যন্ত সরকার নিশ্চিত করতে পেরেছে প্রায় ১ দশমিক ৬৬৫ বিলিয়ন ডলারের বাজেট সহায়তা।
এর মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) দিচ্ছে ১ বিলিয়ন ডলার, এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) দিচ্ছে ২৫০ মিলিয়ন ডলার, জাপান দিচ্ছে ৩১৫ মিলিয়ন ডলার এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট থেকে পাওয়া যাবে ১০০ মিলিয়ন ডলার।
সরকার এখন বিকল্প পথ হিসেবে চলমান প্রকল্পগুলোর অব্যবহৃত অর্থ পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নিয়েছে। ইআরডির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এমন প্রকল্প যেগুলোর কাজ ধীরগতির বা এখনই পূর্ণ অর্থের প্রয়োজন নেই, সেসব প্রকল্প থেকে অর্থ সরিয়ে জরুরি খাতে ব্যবহার করা হবে। খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি আমদানি, সামাজিক সুরক্ষা এবং জরুরি ব্যয়ের জন্য এই অর্থ ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইআরডির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলো চিহ্নিত করে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে বাজেট সহায়তার চেয়েও বেশি অর্থ দ্রুত ব্যবহার করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।
বর্তমানে সবচেয়ে বড় বাজেট সহায়তা দিচ্ছে এডিবি। সংস্থাটির সঙ্গে দুটি পৃথক ঋণচুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ‘সেকেন্ড স্ট্রেনদেনিং সোশ্যাল রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম’ এর আওতায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার এবং ‘স্ট্রেনদেনিং ইকোনমিক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড গভর্ন্যান্স’ কর্মসূচির আওতায় আরও ৭৫০ মিলিয়ন ডলার পাওয়া যাবে।
এদিকে বিশ্বব্যাংক নতুন বাজেট সহায়তার চেয়ে ঋণ পুনর্বিন্যাসে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকার সংস্থাটির কাছে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বাজেট সহায়তা চাইলেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বিশ্বব্যাংকের চলমান বিভিন্ন প্রকল্প থেকে প্রায় ১ দশমিক ৮৩৫ বিলিয়ন ডলার পুনর্বিন্যাসের প্রস্তুতি চলছে।
ইআরডি সূত্র জানিয়েছে, বিশ্বব্যাংকের আওতায় আটটি প্রকল্প থেকে ৭৮৫ মিলিয়ন ডলার সরিয়ে একটি জরুরি তহবিল গঠন করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে গ্যাস সেক্টর দক্ষতা উন্নয়ন, যমুনা নদী ব্যবস্থাপনা, মাধ্যমিক শিক্ষায় শিক্ষার গতি ত্বরান্বিতকরণ, সড়ক নিরাপত্তা, নগর উন্নয়ন, চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ উন্নয়ন, নৌপথ পরিবহন এবং পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প।
সরকার এই অর্থ ব্যবহার করবে কন্টিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্রজেক্ট (সিইআরপি) পদ্ধতিতে। এর আওতায় খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি আমদানি ব্যয় মেটানো হবে। এই ব্যবস্থার বিশেষত্ব হলো নতুন প্রকল্প অনুমোদনের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় যেতে হয় না। বিদ্যমান প্রকল্পের অব্যবহৃত অর্থ সরিয়েই তা জরুরি প্রয়োজনে ব্যয় করা যায়।
প্রথমবারের মতো সরকার ২৫০ মিলিয়ন ডলারের একটি জরুরি ইনভেস্টমেন্ট প্রজেক্ট ফাইন্যান্সিং (আইপিএফ) গ্রহণ করছে। এই অর্থও চলমান প্রকল্পগুলোর অব্যবহৃত অংশ থেকে গঠন করা হয়েছে। মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি ব্যয় নির্বাহ করা।
এআইআইবির কাছেও সরকার ৭৫০ মিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা চেয়েছিল। কিন্তু সংস্থাটি দিচ্ছে ২৫০ মিলিয়ন ডলার। পাশাপাশি এআইআইবির অর্থায়নে চলমান সিলেট-তামাবিল সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প থেকে আরও ৩৫০ মিলিয়ন ডলার পুনর্বিন্যাস করা হবে। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় প্রকল্পটির অর্থছাড় দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইআরডি।
অন্যদিকে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) শুরুতে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তার কথা বললেও পরে তা কমিয়ে ৩১৫ মিলিয়ন ডলারে নামিয়েছে। এই অর্থ সামাজিক সুরক্ষা, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ব্যয় করা হবে।
তবে ফ্রান্স ও জার্মানির কাছ থেকে চাওয়া বাজেট সহায়তা এখনও অনিশ্চিত রয়েছে। সরকার ফ্রান্সের কাছে ২০০ মিলিয়ন ডলার এবং জার্মান সংস্থাগুলোর কাছে ১৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা চাইলেও এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি মেলেনি।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু ঋণ সংগ্রহ করাই যথেষ্ট নয়। বরং ঋণের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ উন্নয়ন প্রকল্পে ধীরগতি থাকলে নতুন ঋণ নিয়েও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ যেমন বাড়ছে, তেমনি দ্রুত বাড়ছে ঋণ পরিশোধের চাপও। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে বার্ষিক ঋণ পরিশোধ ৫ থেকে ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, রাজস্ব আদায় বাড়ানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার জোগান নিশ্চিত করা না গেলে ঋণ পরিশোধের চাপ অর্থনীতির জন্য বড় সংকট তৈরি করতে পারে। তাই ঋণ এমন খাতে ব্যবহার করতে হবে যেখান থেকে দ্রুত অর্থনৈতিক রিটার্ন পাওয়া সম্ভব।
বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়ন ব্যয়ের নিম্নগতি, ঋণ ছাড় কমে যাওয়া এবং বাজেট সহায়তার অনিশ্চয়তা মিলিয়ে সরকারের জন্য আগামী সময় আরও কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, আমদানি ব্যয় এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয়ের চাপ বাড়তে থাকলে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। তাই এখন সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো, প্রশাসনিক দক্ষতা নিশ্চিত করা এবং বৈদেশিক ঋণের অর্থ উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার করা।
সুত্র- ঢাকামেইল







