
আবহাওয়া প্রচণ্ড বেরসিক হয়ে উঠেছে। ঘরের ভেতর ফ্যানের নিচে বসেও মানুষ দরদর করে ঘামছে। এসি অফ রাখাই যাচ্ছে না। ঘরের বাইরে পা দিলেই টের পাওয়া যাচ্ছে রোদের তেজ। বৃষ্টিতে সাময়িকভাবে তাপমাত্রা কমলেও কিছুক্ষণ পর একই অবস্থা। গরমে ঘাম, র্যাশ আর চুলকানি যখন নিত্যসঙ্গী, তখন একটুখানি স্বস্তি মেলায় ‘কুলিং পাউডার’। গায়ে একটু কুলিং পাউডার ছড়ালে যেন গরমটা কমে।
তবে ডার্মাটোলজিস্টরা বলছেন, এই ‘স্বর্গীয় অনুভূতি’ আসলে মস্ত বড় ধোঁকা! যে ঠান্ডা পাউডারকে পরম বন্ধু ভাবছেন, তা নিশব্দেই ক্ষতি করছে ত্বকের। কুলিং পাউডারগুলোর মূল কাজ হলো আর্দ্রতা শুষে নেওয়া আর পোশাকের সঙ্গে ত্বকের ঘর্ষণ রোধ করা। এই ধরনের পাউডারে মেশানো থাকে মেন্থল বা কর্পূর, যা আমাদের স্নায়ুকে সাময়িকভাবে উত্তেজিত করে একটা ঠান্ডা হওয়ার কৃত্রিম অনুভূতি দেয় মাত্র।
সহজ কথায় বলা যায়, কুলিং পাউডার কিন্তু ঘাম হওয়া আটকাতে পারে না। দেহের তাপমাত্রার সঙ্গেও এই ধরনের প্রসাধনীর কোনো সম্পর্ক নেই। এই আবহাওয়ায় কুলিং পাউডার মাখার ঠিক ১০ মিনিটের মাথায় যখন আবার দরদর করে ঘাম বের হতে শুরু করে, তখনই ঘটে বিপত্তি। পাউডারের সাদা স্তরের নিচে ঘাম ও ময়লা আটকে গিয়ে ত্বক আরও স্যাঁতস্যাঁতে আর ভ্যাপসা হয়ে যায়।
রূপচর্চা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চটজলদি স্বস্তির আড়ালে লুকিয়ে আছে মারাত্মক সাইড এফেক্ট। এই পাউডারগুলো শুধু সাময়িক উপসর্গ কমায়, এর কোনো চিকিৎসাগত গুণ বা থেরাপিউটিক বেনিফিট নেই। উল্টো পাউডারে থাকা কড়া কৃত্রিম সুগন্ধি ত্বকের নিজস্ব সুরক্ষাকবচ (Skin Barrier) একদম নষ্ট করে দেয়।
বিশেষত যাদের ত্বক অতিরিক্ত সেন্সিটিভ, তাদের জন্য এই মেন্থল ভীষণ ক্ষতিকর। রোজ নিয়ম করে গলা, আন্ডারআর্মস বা কুঁচকির মতো শরীরের ভাঁজযুক্ত অংশে কুলিং পাউডার ঘষলে লোমকূপের মুখ পুরোপুরি বন্ধ (Clogged Pores) হয়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ সেখানে ঘাম আর পাউডার মিলে একটা আঠালো, চটচটে কাদা তৈরি করে। ফলে এটি ব্যাকটেরিয়া এবং ফাঙ্গাসের মোক্ষম প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়।
চাইলে পাউডার ছাড়াই শরীর ঠান্ডা রাখা যায়। কীভাবে? চলুন জেনে নিই কিছু ঘরোয়া উপায়-
গোসলের পর শরীরের প্রতিটি ভাঁজ তোয়ালে দিয়ে চেপে চেপে ভালো করে শুকিয়ে নিন। আর্দ্রভাব না থাকলে ফাঙ্গাসও হবে না।
এই গরমে সিন্থেটিক পোশাক পরবেন না। গরমে ত্বককে শ্বাস নিতে দিন। হালকা রঙের, ঢিলেঢালা সুতির (Cotton) পোশাক পরুন।
ঘামাচি বা র্যাশের প্রবণতা থাকলে পাউডারের বদলে জিঙ্ক অক্সাইড (Zinc Oxide) যুক্ত ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন।
একান্ত যদি পাউডার মাখতেই হয়, সেক্ষেত্রে বাজার থেকে ‘ট্যাল্ক-ফ্রি’ বা কর্নস্টার্চ (Cornstarch)-যুক্ত পাউডার ব্যবহার কিনুন। এগুলো ত্বকের জন্য কম ক্ষতিকর।
ঠান্ডা অনুভূতির জন্য মেন্থলের ওপর ভরসা না করে বেছে নিন অ্যালোভেরা বা ক্যালামাইন-যুক্ত হালকা জেল-ভিত্তিক বডি লোশন।