
গোপালগঞ্জ জেলা:
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের লক্ষিপুর এলাকায় (সোনাডাঙা থেকে কুমরিয়া বাজারের মধ্যবর্তী) কুমার নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, রাতের আঁধারে কয়েকদিন ধরে ড্রেজার মেশিন ও পাইপ বসিয়ে নদী থেকে বালু তুলে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে।
এতে নদীর তীরে ভাঙন ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাস্তা ও এলজিইডি’র রাস্তার নিচ দিয়ে পাইপ স্থাপন করে নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। পরে এসব বালু আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বালু বিক্রি করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের জামাল মুন্সি নামে এক ব্যক্তি স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এ অবৈধ বালু উত্তোলনের কাজ পরিচালনা করছেন। রাতের বেলায় ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে গত ৩-৪ দিন ধরে নিয়মিতভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত এক শ্রমিক নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান, জামাল মুন্সি মাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মটু মিয়ার আস্থাভাজন কর্মী ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি পরিচয় দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলনের কাজ করছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত জামাল মুন্সি সাংবাদিকদের বলেন, “আপনারা যা পারেন করেন, আমি ক্যামেরার সামনে কোনো বক্তব্য দিবোনা। দীর্ঘ ৬ মাস ড্রেজার বন্ধ। ২ দিন চালিয়েছি আর আপনারা এসে হাজির। আগেও নদী থেকে বালু কেটেছি এখনও কাটবো। আপনারা যা পারেন করেন। আমার সঙ্গে নেতা আছে।”
এদিকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে মটু মিয়ার বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। হয়তো আমার নাম ভাঙ্গিয়ে কোনো অসাধু চক্র এ ধরনের কাজ করছে।”
কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীন মিয়া বলেন, “অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা জাবেনা। যদি কেউ ড্রেজার মেশিন ও পাইপ বসিয়ে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”