
ক্যারিয়ারের সাফল্য বলতে এতদিন আমরা কেবল পদের নাম, পদোন্নতি আর মোটা অংকের বেতনকেই বুঝতাম। কিন্তু বিশ্বজুড়ে কর্মী ছাঁটাই এবং অতিরিক্ত কাজের চাপের এই সময়ে পেশাজীবীদের ভাবনার জায়গাটি বদলে গেছে। এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, ঠিক কোন চাকরি মানুষকে সত্যিকার অর্থে সুখী করে?
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ‘ব্লিং’ (Blink) নামের একটি প্রতিষ্ঠান দেশটির ১০০টি চাহিদাসম্পন্ন পেশা নিয়ে একটি গবেষণা চালিয়েছে। সেখানে এমন ১০টি পেশা চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে কর্মীরা বছরে ১ লাখ ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা) বেশি আয় করেন এবং একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সুখী থাকেন।
গবেষণায় উঠে এসেছে, সুখী হওয়ার মানে এই নয় যে সেখানে কাজের চাপ নেই; বরং ভালো বেতনের পাশাপাশি কাজের পরিবেশ এবং নিজের গুরুত্ব অনুভব করাটাই কর্মীর সুখের আসল চাবিকাঠি।
তালিকায় থাকা যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১০টি সুখী ও উচ্চ বেতনভুক্ত পেশা এবং তাঁদের বার্ষিক গড় আয়-
বিমানের পাইলট ও ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার: বার্ষিক গড় আয় ২ লাখ ১৯ হাজার ১৪০ ডলার। এটি অনেক বড় দায়িত্বের কাজ এবং কাজের সময়সূচী অনিয়মিত হওয়া সত্ত্বেও, দক্ষ পেশাজীবী হিসেবে নিজেদের যোগ্যতার স্বীকৃতি তাদের সবচেয়ে বেশি সুখী করে।

মার্কেটিং ম্যানেজার: বার্ষিক গড় আয় ১ লাখ ৫৭ হাজার ৬২০ ডলার। সৃজনশীলতা চর্চার সুযোগ এবং কাজের স্বাধীনতা থাকায় এই পেশার মানুষেরা বেশ সন্তুষ্ট।
ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজার: বার্ষিক গড় আয় ১ লাখ ৫৬ হাজার ১০০ ডলার। অর্থনৈতিক খাতের এই পেশায় কাজের গুরুত্ব এবং সামাজিক মর্যাদা অনেক বেশি, যা তাদের তৃপ্তি দেয়।
আইনজীবী: বার্ষিক গড় আয় ১ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬০ ডলার। অন্যের জটিল আইনি সমস্যার সমাধান করে মানসিক তৃপ্তি পাওয়ার পাশাপাশি এই পেশায় রয়েছে সম্মানের জায়গা।
হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজার: বার্ষিক গড় আয় ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩৫০ ডলার। মানুষের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগ এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারার আনন্দ এই পেশাকে সুখী করে তোলে।
ফার্মাসিস্ট: বার্ষিক গড় আয় ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩০ ডলার। সরাসরি চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবায় অবদান রাখতে পারার সার্থকতা এই পেশার কর্মীদের সুখী করে।
পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ার: বার্ষিক গড় আয় ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬৯০ ডলার। জ্বালানি খাতের এই চ্যালেঞ্জিং পেশায় কর্মীরা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দারুণ মূল্যায়ন ও সম্মান পান।
কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার: বার্ষিক গড় আয় ১ লাখ ৩০ হাজার ৮০ ডলার। নিত্যনতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং তা নিয়ে কাজ করার আনন্দই এই পেশার মূল শক্তি।
সফটওয়্যার ডেভেলপার: বার্ষিক গড় আয় ১ লাখ ২৭ হাজার ২৬০ ডলার। আধুনিক প্রযুক্তি বিশ্বে কাজের চমৎকার পরিবেশ ও সৃজনশীল স্বাধীনতার কারণে তারা কর্মক্ষেত্রে অনেক সুখী।
পোস্টমাস্টার ও মেইল সুপারিনটেনডেন্ট: বার্ষিক গড় আয় ১ লাখ ৭ হাজার ৩৬০ ডলার। ডাক বিভাগের এই পেশায় কাজের নিশ্চয়তা এবং মানসিক প্রশান্তি অন্য যেকোনো পেশার চেয়ে তুলনামূলক বেশি।
পেশাগুলো ভিন্ন ভিন্ন খাতের হলেও তাদের মধ্যে তিনটি মিল স্পষ্ট, প্রতিযোগিতামূলক বেতন, উন্নত কাজের পরিবেশ এবং একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য। এই গবেষণা আমাদের নতুন এক বার্তা দেয়: শুধু টাকার পাহাড় থাকলেই চাকরি সুখী হয় না; কাজের স্বাধীনতা, যোগ্যতার সঠিক মূল্যায়ন এবং সম্মানজনক বেতনের সঠিক ভারসাম্যই মানুষকে কর্মক্ষেত্রে সত্যিকার সুখী করে তোলে।