1. jmitsolution24@gmail.com : News Desk : News Desk
  2. livenewsbd24@gmail.com : livenews24bd : Mehedi Hasan
  3. news.livenews24bd@gmail.com : LN24BD DESK : LN24BD DESK
সৌদি আরবে ওমরাহ হজ্জ করতে গিয়ে মৃত্যু খবরে বাড়িতে বইছে শোকের মাতম - Livenews24bd সত্যের সাথে প্রতিদিন
বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৩:৪৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পঞ্চগড়ে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে সবংর্ধনা ও মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠান মার্কিন হামলায় প্রশান্ত মহাসাগরে নৌযান বিধ্বস্ত, নিহত ৩ রওজা মোবারকে দরজা-জানালা নেই কেন? হজের সফল সমাপ্তির ঘোষণা দিল সৌদি আরব শোক ভুলে কাজে নেমেছিলেন প্রিয়াঙ্কা, এবার সেখানেও ধাক্কা আদ্-দ্বীনের ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের ৫ অঞ্চলে ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত চরে আটকা পড়া দেড়শতাধিক পর্যটক উদ্ধার জিয়াউর রহমানের সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড়কে পুনরায় সংযুক্ত হওয়ার জন্য এই অঞ্চলকে বেছে নিয়ে ভিসি হয়েছি। উপাচার্য, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়।

সৌদি আরবে ওমরাহ হজ্জ করতে গিয়ে মৃত্যু খবরে বাড়িতে বইছে শোকের মাতম

Reporter Name
  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ, ২০২৩
  • ৩৫৩ শেয়ার এবং সংবাদটি পড়েছেন।
হাফিজুল শরিফ।।
বাবাকে হারিয়েছে ১৬ বছর আগে। অনেক কষ্ট করে মা সন্তানদের মানুষ করেছেন। সাত সন্তানদের মধ্যে ছোট সন্তান হচ্ছে রুহুল আমিন রনি (৩৫)। মাদারীপুরে থাকা অবস্থায় অটোবাইক চালিয়ে সংসারের খরচ জোগার করতেন। গত প্রায় ৭ মাস আগে ধার দেনা করে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরব যান। সৌদি আরবের খামিজ শহরের মিন্দিমাতাম নামেবএকটি রেস্টুরেন্টে কাজ করতেন। ইতিমধ্যেই একটু একটু করে দেনা পরিশোধ করতে ছিলেন। এরই মধ্যে ঘটে যায় দুর্ঘটনা। সৌদি আরবে থাকা অবস্থায় ওমরাহ হজ্জ করতে যাবার সময় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের আসির প্রদেশের আকাবা শার এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মাদারীপুরের কুনিয়া ইউনিয়নের দিয়াপাড়া গ্রামের ৯ নং ওয়ার্ডের রুহুল আমিন(রনি) মারা যান। এই ঘটনার খবর পাবার পর থেকেই মাদারীপুরের নিজ বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। বৃদ্ধা মাকে কোনভাবেই শান্তনা দিতে পারছেন না আত্মীয়-স্বজনসহ পাড়া প্রতিবেশি।
মাদারীপুর সদর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের দিয়াপাড়া গ্রামের ৯ নং ওয়ার্ডের মৃত এসহাক মাতুব্বরের ছেলে রুহুল আমিন রনি।
খোজ নিয়ে জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের দিয়াপাড়া গ্রামের ৯ নং ওয়ার্ডের এসহাক মাতুব্বর তার পরিবার নিয়ে খুলনা থাকতেন। সেখানেই প্রায় ১৬ বছর আগে মারা যান। এরপর গত সাত বছর ধরে মাদারীপুরের নিজ বাড়িতে সাত সন্তান নিয়ে চলে আসেন এসহাকের স্ত্রী রাবেয়া বেগম। অনেক কষ্ট করে চার ছেলে ও তিন মেয়েকে বড় করেছেন। তার একটি মেয়ে স্বামীর থেকে তালাকপ্রাপ্ত হওয়ায় চলে আসেন মায়ের সংসারে। ছোট্ট একটি দোচালা ঘর ছাড়া তাদের আর কিছুই নেই। অভাবের সংসারে কিছুটা খরচ জোগারের জন্য রনি অটোবাইক চালানো শুরু করেন। এরপর বিয়ে করেন। সংসারে এক ছেলে তাসরিফ মাতুব্বর (৭) ও মেয়ে তাসফিয়া (৩) বড় হতে থাকলে, সংসারের খরচ বেড়ে যায়। কোন উপায় না পেয়ে ধার-দেনা করে জীবিকার সন্ধানে গত সাত মাস আগে সৌদি আরব যান রনি। সংসারের সবাই একটু সুখের সন্ধান পেতে থাকার মুর্হূতেই হারাতে হলো রনিকে। সৌদি আরবে থাকা অবস্থায় ওমরাহ হজ্জ করতে যাবার সময় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের আসির প্রদেশের আকাবা শার এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তিনি।
এই খবর শোনার পর থেকেই বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। মা কিছুক্ষণ পর পর জ্ঞান হারাচ্ছেন। স্ত্রী আসমা বেগমেরও একই অবস্থা। ছোট মেয়ে তেমন কিছু না বুঝলেও ছেলে বাবা বাবা বলে কান্না করছে। খবর পেয়ে আসে পাশের লোকজনও ছুটে আসছেন রনি বাড়িতে।
মা রাবেয়া বেগম বলেন, ১৬ বছর আগে স্বামীকে হারিয়েছি। এরপর অনেক কষ্ট করে সন্তানদের বড় করেছি। রণি অনেক ধার-দেনা করে সৌদি আবর গেছেন। সেখানে কাজ করতেন রনি। সৌদি আরব থেকে ফোন করে পরিচিত কয়েকজন জানিয়েছেন গাড়িতে আগুনে পুড়ে রনি মারা গেছে। তার লাশও নাকি পাওয়া যাচ্ছে না। তাহলে আমার ছেলেও লাশও কি দেখতে পাবোনা। এত টাকা ধার-দেনা করেছে, তা কিভাবে শোধ করবো। আমরা সরকারের সহযোগিতা চাই।
শাশুরী রাশিদা বেগম বলেন, আমার মেয়ের স্বামী অনেক ধার-দেনা করে বিদেশ গেছে। এখন আমরা কি করবো। আমার মেয়ে এই ছোট ছোট দুই ছেলে মেয়ে নিয়ে কিভাবে বেচে থাকবে। শুনেছি ঐ গাড়িতে আগুন লেগেছে। তাই হয়তো তার লাশ আগুনে পুড়ে গেছে। হয়তো তাই লাশটি পাওয়া যাচ্ছে না।
স্ত্রী আসমা বেগম বলেন, আমার সব শেষ হয়ে গেলো। আমার দুই সন্তান নিয়ে আমি একেবারে পথে বসে গেলাম। তাছাড়া এই ধার করা প্রায় ৪ লাখ টাকা আছে। তা কিভাবে শোধ করবো। আমি এব্যাপারে সরকারের সহযোগিতা চাই। যাতে করে আমরা দেনা শোধ করতে পারি আর এই ছোট ছেলে-মেয়েকে নিয়ে একটু খেয়ে পড়ে বাচতে পারি। তাছাড়া আমার স্বামী মারা গেছে শুনছি। আরো শুনেছি তার লাশ নাকি পাওয়া যায়নি। যদি সে বেচে থাকে, তাহলে যেন তার ভালোভাবে চিকিৎসা হয়। আর মারা গেলে যেন, লাশটা বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়, এই দাবী সরকারের কাছে জানাই।
রনির চাচাতো ভাই মিঠু মাতুব্বর বলেন, গতকাল রাতে (২৯ মার্চ, বুধবার) আমরা রনির মারা যাবার খবর পেয়েছি। আমাদের এক আত্মীয় এই গ্রামেরই জসিম নামের একজন সৌদি আরবে রনির সাথে থাকতেন। জসিমই রাতে ফোন করে আমাদের জানিয়েছেন রনি ঐ গাড়িতে ছিলেন। দুর্ঘটনায় রনি মারা গেছেন। তবে তার লাশ পাওয়া যায়নি।
কুনিয়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বর মো. হুমায়ন বলেন, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। রণি অনেক ধার-দেনা করে সৌদি আরব গেছেন। তাই পরিবারটি রনিকে হারিয়ে খুবই অসহায় হয়ে পড়েছেন। তাই যদি সরকারীভাবে কোন সহযোগিতার ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে হয়তো পরিবারটির একটু উপকার হতো।
মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাইনউদ্দিন বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে রনির পরিবারের জন্য যতটুকু সহযোগিতা করা সম্ভব, তা করা হবে। ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক।
MHS /ln24bd

আপনার পছন্দের লিংকের মাধ্যমে সংবাদটি শেয়ার করুন, আমাদের সাথেই থাকুন

আরও সংবাদ দেখুন