1. jmitsolution24@gmail.com : News Desk : News Desk
  2. livenewsbd24@gmail.com : livenews24bd : Mehedi Hasan
  3. news.livenews24bd@gmail.com : LN24BD DESK : LN24BD DESK
লিবিয়া ৯ মাস' ফিরলেন ৩ বাংলাদেশি - Livenews24bd সত্যের সাথে প্রতিদিন
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ইউনিয়নে সকল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন বিএনপি নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী দোয়ারাবাজারে সাংবাদিকের উপর হামলাকারী মাদক সম্রাট আহাদ ভূইয়ার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনের পর কতটা বদলেছে দুই হাসপাতালের চিত্র? কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৪, আহত ৩৯ যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পেলেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী সালথায় সোনাপুরে বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেন ছরোয়ার হোসেন বর্তমান সরকার অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত-এসকে আজিজুল বারী হেলাল মাদারীপুরের যুবককে লিবিয়ায় আটকে মুক্তিপণ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার মাদারীপুরে অভিবাসন সেবা জোরদারে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে কৌশলগত কর্মশালা মাদারীপুরে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ নিয়ে অবহিতকরণ সভা

লিবিয়া ৯ মাস’ ফিরলেন ৩ বাংলাদেশি

Reporter Name
  • প্রকাশিত : বুধবার, ৯ জুলাই, ২০২৫
  • ১৫৭ শেয়ার এবং সংবাদটি পড়েছেন।

লিবিয়ায় পাচারের শিকার হয়ে দীর্ঘ ৯ মাস অমানবিক নির্যাতন সহ্য করার অবশেষে দেশে ফিরেছেন ঝিনাইদহের মতিউর রহমান সাগর, কুষ্টিয়ার তানজির শেখ ও নোয়াখালীর আলমগীর হোসেন।

বুধবার (৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টায় বুরাক এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তারা দেশে ফিরেছেন।

২০২৩ সালে দালালদের মিথ্যা প্রলোভনে সাগর ও তানজির প্রত্যেকে চার লাখ টাকা খরচ করে লিবিয়ায় যান। আলমগীর গিয়েছিলেন আড়াই বছর আগে তিন লাখ টাকা খরচায়। দালালরা তাদের ইতালিতে চাকরি দেওয়ার লোভ দেখিয়ে লিবিয়া পাঠিয়েছিল।

সেখানে পৌঁছানোর পরে পাচারকারীরা তাদেরকে ভয়ঙ্কর এক মাফিয়া চক্রের কাছে বিক্রি করে দেয়। ত্রিপোলিতে আরও ৮০ জন বাংলাদেশির সঙ্গে আটকে রেখে তাদের উপর চালানো হয় মাসের পর মাস নির্মম নির্যাতন। পরিবারের কাছ থেকে নেওয়া হয় মুক্তিপণ।

B2

একসময় তারা মারা গেছেন- এটা ভেবে পাচারকারীরা তাদেরকে মরুভূমিতে ফেলে রেখে চলে যায়। সেখান থেকে তাদেরকে মৃতপ্রায় অবস্থায় কয়েকজন বাংলাদেশি শ্রমিক খুঁজে পান এবং আশ্রয় ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

বুধবার সকালে লিবিয়া দূতাবাস ও আইওএমের সহায়তায় দেশে ফিরেছেন লিবিয়ায় আটকে পড়া ১৪১ জন বাংলাদেশি। তাদের সঙ্গে ফিরেছেন সাগর, তানজির এবং আলমগীরও।

এদিকে লিবিয়ায় আটকে থাকা তিন বাংলাদেশির পরিবার তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য যোগাযোগ করে ব্র্যাকের সঙ্গে। পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে ব্র্যাক, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের ট্রাফিকিং ইন পারসনস (টিআইপি) অফিস, ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের (আইওএম) ওয়াশিংটনস্থ দফতর এবং ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিস মিশনের (আইজেএম) সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই তিন তরুণকে লিবিয়ায় সেইফ হোমে স্থানান্তর করা হয়। আইনি জটিলতা কাটিয়ে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হয়েছে।

এই প্রক্রিয়ায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড, ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের (আইওএম) লিবিয়া মিশন এবং লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

B3

এ ঘটনায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে ঢাকায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে একটির তদন্ত পরিচালনা করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এরইমধ্যে গ্রেফতার হয়েছে দুই মানব পাচারকারী।

মানব পাচারের শিকার তানজির শেখ বলেন, ‘লিবিয়ায় আমাদেরকে দিনের পর দিন বেঁধে রাখতো, লোহার রড দিয়ে পেটাতো। নির্যাতনের ভিডিও আমাদের পরিবারকে পাঠিয়ে মুক্তিপণ নিয়েছে। মারা গেছি ভেবে তারা আমাদের মরুভূমিতে ফেলে রেখে গিয়েছিল। বেঁচে কোনোদিন যে দেশে ফিরতে পারব, সেটা ভাবিনি।’

ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম এন্ড ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান বলেন, ‘ইউরোপে পাঠানোর লোভ দেখিয়ে যাদের লিবিয়া নেওয়া হয়, তাদের সবাইকে ইতালিতে ভালো চাকরির কথা বললেও তারা কিন্তু চাকরি পায় না। উল্টো অধিকাংশকেই লিবিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে বন্দি রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। এরপর তাদেরকে জিম্মি করে পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়। তবে এত কিছুর পরেও ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে বাংলাদেশের মানুষের ইউরোপের স্বপ্নে লিবিয়া যাওয়ার এই প্রবণতা থামছে না।’

B4

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের ম্যানেজার আল আমিন নয়ন বলেন, ‘তিন বাংলাদেশি মানব পাচার সার্ভাইভারের প্রত্যাবাসনের জন্যে আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাফিকিং-ইন-পারসন্স হিরো নেটওয়ার্কের সহায়তা নিয়েছি। গত মাসের ২৫ জুন মানব পাচারের শিকার আরও দুজন বাংলাদেশিকে ব্র্যাক ও টিআইপি হিরো নেটওয়ার্কের সহায়তায় দেশে ফিরিয়ে এনেছে।’

বিমানবন্দরের বিদেশ ফেরতদের জরুরি সহায়তায দিতে গত আট বছর ধরে কাজ করছে ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টার। সিভিলে এভিয়েশন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক, এপিবিএনসহ সবার সহযোগিতায় গত আট বছরে ৩৭ হাজারেরও বেশি মানুষকে নানা ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে। শুধু ২০২৪ সালেই ৪০ জন প্রবাসীকে বিশ্বের নানা দেশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের ম্যানেজার ও মানবপাচার বিরোধী লড়াইয়ে ভূমিকা রেখে যুক্তরাষ্ট্রের টিআইপি হিরো-২০২৪ পুরস্কারে ভূষিত আল-আমিন নয়ন ও মালয়েশিয়া থেকে ফেরত আসা রায়হান কবিরসহ একটি টিম এই কাজে যুক্ত আছেন। প্রবাসে সংকটে আছেন- এমন যে কেউ বা তাদের পরিবারের সদস্যরা ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে যোগাযোগ করতে পারেন।

আপনার পছন্দের লিংকের মাধ্যমে সংবাদটি শেয়ার করুন, আমাদের সাথেই থাকুন

আরও সংবাদ দেখুন