
টানা তৃতীয় রাতের মতো ইরানে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। একটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর জবাবে হরমুজ প্রণালীতে দুটি সুপার অয়েল ট্যাংকারে হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
আইআরজিসির এক বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানায়, দুটি সুপার অয়েল ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামলার বিস্তারিত বা ট্যাংকারগুলোর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে, ওমানের জলসীমায় হরমুজ প্রণালিতে তাদের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরান ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত একজন ভারতীয় নাবিক নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই দুঃসাহসিক হামলার নিন্দা জানায়, যা একটি গুরুতর লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট অবমাননা। এটি অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।’
পরে টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে। তারা দাবি করে, দুটি ট্যাংকার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিল, নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ করেছিল এবং মাইন পাতা একটি রুট দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। তারা ট্যাংকার দুটিতে আঘাত হানে এবং সেগুলোকে অচল করে দেয়।
আইআরজিসি আরও বলে, ‘আগ্রাসী শত্রুকে’ সহযোগিতা করলে শেষ পর্যন্ত অনুশোচনা, ক্ষতি এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিলম্ব হবে, পাশাপাশি বিশ্বে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হবে।’
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, টানা তৃতীয় রাতের মতো ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ বা বাধাগ্রস্ত করার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইরানের সামরিক অবকাঠামো।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ইরানের অভ্যন্তরে একটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। এমন হামলা হলে যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবারের মতো সংঘাত আবারও ইরানের ভেতরে নতুন মাত্রা পাবে।
প্রসঙ্গত, হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ উত্তেজনাপূর্ণ কেন্দ্র। গত রোববার রাতে এই অঞ্চলে পাল্টাপাল্টি হামলার পর সোমবার উভয় পক্ষ এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে সংঘাতে জড়ায়।
সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ মার্কিন বাহিনী নিজের হাতে তুলে নেবে।
সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা প্রণালিটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছি এবং সম্ভবত আমরাই এটি পরিচালনা করব। তাদের (ইরান) কিছুই নেই। তাদের হাতে কিছুই নেই।’
ট্রাম্প আরও জানান, হরমুজ প্রণালির সুরক্ষায় মার্কিন ভূমিকাকে ‘গার্ডিয়ান অ্যান্জেল অব দ্য স্ট্রেট’ (প্রণালীর অভিভাবক দেবদূত) নাম দেওয়ার কথা ভাবছেন তিনি। একই সঙ্গে এই বিশ্ব বাণিজ্য পথ পাহারা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ধনী দেশগুলোর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বা ক্ষতিপূরণ আদায় করার ঘোষণাও দেন।
তিনি বলেন, ‘অন্য দেশগুলো অত্যন্ত ধনী এবং তারা আমাদের কাছ থেকে বিনামূল্যে এই কাজ আশা করতে পারে না’।
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ফলে ইরানে নতুন করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। তার জবাবে আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান।