
গোপালগঞ্জ জেলা:
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ঝুটিগ্ৰাম এলাকায় আইফোন মোবাইলের টাকার লোভে সিয়াম মোল্যা (১৮) নামের এক কলেজছাত্রকে হত্যা করেছে তার চার বন্ধু। এঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
হত্যার দুই দিন পর সোমবার (৯ মার্চ) রাত ১১টার দিকে মুকসুদপুর উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের ঝুটিগ্রামের একটি পুকুরের কচুরীপানার নিচ থেকে সিয়ামের লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত সিয়াম মোল্যা গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের ঝুটিগ্রামের ইতালী প্রবাসী লিখন মোল্যার ছেলে ও মুকসুদপুর সরকারি কলেজের এইচএসসির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল।
মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন গণমাধ্যমকে জানান, গত ৭ মার্চ থেকে কলেজছাত্র সিয়াম নিখোঁজ হয়। সোমবার রাতে ঝুটিগ্রামের একটি পুকুরের কচুরীপানার মধ্যে থেকে পচা দুর্গন্ধ আসতে থাকে। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কচুরিপানার মধ্যে থেকে সিয়ামের লাশ উদ্ধার করে।
তিনি আরো জানান, ধারণা করা হচ্ছে সিয়ামের কাছে একটি আইফোন ও নগদ টাকা ছিল। সেই ফোন বিক্রি করে এবং নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে মাদকের টাকা জোগার করতে সিয়ামকে হত্যার পরিকল্পনা করে তার চার বন্ধু- বাঁশবাড়িয়া এলাকার ইউপি সদস্য (মেম্বার) রিপনের ছেলে সাজিদ, টুটুল মুন্সীর ছেলে পারভেজ মুন্সী, ঝুটিগ্রামের শাহীন মিয়ার ছেলে দিদার মিয়া ও রহমান মুন্সীর ছেলে অভি মুন্সী।
সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী শনিবার (৭ মার্চ) সিয়ামকে হত্যার পর একটি পুকুরে কচুরিপানার নিচে লাশ গুম করে রাখে চার বন্ধু। এঘটনায় ঝুটিগ্রামের শাহিন মিয়ার ছেলে দিদার (১৪) ও বাঁশবাড়ীয়া গ্রামের টিটুল মুন্সীর ছেলে পারভেজকে (১৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকি দুইজনকে ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে।
এলাকাবাসী গণমাধ্যমকে জানান, মা মারা যাওয়ায় এবং বাবা ইতালী প্রবাসী হওয়ায় ঝুটিগ্রামের নানার বাড়িতে থাকতো সিয়াম।
মুকসুদপুর উপজেলাবাসী এ ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
