1. sarifhafiz48@gmail.com : livenewsdesk desk : livenewsdesk desk
  2. mehedihasan.mhs078@gmail.com : Arif Molla : Arif Molla
  3. jmitsolutionbd@gmail.com : jmmasud :
  4. livenewsbd24@gmail.com : Mehedi Hasan : Mehedi Hasan
কাহারোলে পোড়ামাটি স্থাপত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন কান্তজিউ মন্দির - Livenews24
শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কমিউটার ট্রেনের ছাদে ডাকাতদের হামলায় দুই যাত্রীর মৃত্যু, আহত-১ আসন্ন জামালপুর জেলা পরিষদ নির্বাচন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী মির্জা মনি ও ফারুক চৌধুরী ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ২৫৪ জন হাসপাতালে শনিবারের মধ্যেই বিমানবন্দরের পিসিআর ল্যাবে করোনা পরীক্ষা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশে করোনায় ২৪ জনের মৃত্যু দেশ যখনই এগিয়ে যায় বিএনপির নেতৃত্বে প্রতিক্রিয়াশীল একটি মহল দেশের অগ্রযাত্রার গতিকে থামিয়ে দিতে চায়: কাদের তালেবানদের মধ্যে গভীর বিভাজন ম্যাক্রোঁ-বাইডেন ফোনালাপ গৃহযুদ্ধের হুঁশিয়ারি ইমরান খানের পুরো যুক্তরাষ্ট্রকে কাঁদানো সেই তরুণীর লাশ উদ্ধার জার্মানির পেট্রোল স্টেশনের ক্যাশিয়ারকে গুলি করে হত্যা ই-কমার্স ব্যবসা বন্ধের প্রস্তাব! ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ২২৯ জন হাসপাতালে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে মার্কিন বিনিয়োগ আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর দেশে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৩৬ জনের মৃত্যু

কাহারোলে পোড়ামাটি স্থাপত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন কান্তজিউ মন্দির

  • প্রকাশিত : সোমবার, ৯ আগস্ট, ২০২১
  • ২২ শেয়ার এবং সংবাদটি পড়েছেন।

মোঃ নূর ইসলাম নয়ন।।

দেশের উত্তর অঞ্চলের দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায়
পোড়ামাটি স্থাপত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন কান্তজিউ মন্দির। দিনাজপুর জেলা সদর হতে ২০
কিলোমিটার উত্তরে কাহারোল উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নে দিনাজপুর-পঞ্চগড় মহাসড়কের
পশ্চিমে ঢেপা নদীর তীরে কান্তনগর এলাকায় কান্তজিউ মন্দিরের অবস্থান। কান্তজিউ মন্দির ১৮
শতকে নির্মিত একটি চমৎকার ধর্মীয় স্থাপনা। শুধু নির্মাণ শৈলীই নয়, উৎকর্ষের জন্যও এ
মন্দিরের পরিচিতি বিশ্বজুড়ে। ১৭২২ খ্রিষ্টাব্দে মহারাজা প্রাণনাথ রায় তাঁর মৃত্যুর আগে
১৭০৪ সালে মন্দিরের নির্মাণকাজ শুরু করেন। মহারাজার মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র রাজা রাম নাথ
১৭৫২ সালে এর নির্মাণকাজ শেষ করেন। ইটের তৈরি অষ্টাদশ শতাব্দীর এ মন্দির ভগবান
শ্রীকৃষ্ণের উদ্দেশ্যে নিবেদিত। কালিয়াকান্ত জিউ অর্থাৎ শ্রী-কৃষ্ণের বিগ্রহ প্রতিষ্ঠিত
রয়েছে এ মন্দির গর্ভে। তাই এ মন্দিরের নাম কান্তজিউ, কান্তজি বা কান্তজির মন্দির। কান্তজি
মন্দিরের কারণেই এ এলাকা কান্তনগর নামে পরিচিতি পায়। একই কারণে পরবর্তীতে মন্দিরটির
আরেক নাম কান্তনগর মন্দির হয়ে ওঠে। এটি নবরত্ন মন্দির নামেও পরিচিত কারণ তিন
তলাবিশিষ্ট এই মন্দিরের নয়টি চূড়া বা রত্ন ছিল। কান্তজিউ মন্দিরকে ঘিরে গড়ে উঠেছে
পর্যটন এলাকা। নির্মিত হয়েছে জাদুঘর, হোটেল-মোটেল, শপিং মলসহ নানা স্থাপনা। অতি
সুন্দর ও ধারাবাহিকভাবে মন্দিরের দেয়ালে তুলে ধরা রামায়ণ, মহাভারতসহ পুরানে বর্ণিত
বিচিত্র কাহিনি পর্যটক ও পর্যটন প্রিয় সাধারণ মানুষকে বিমোহিত করে। দেশ এবং দেশের
বাইরে থেকে ঐতিহাসিক এ মন্দির দেখতে সারা বছর ভিড় করেন পুণ্যার্থী ও পর্যটকেরা।
নির্মাণ শৈলী ও বৈচিত্র্যময়তা দেখে পর্যটকেরা বিমোহিত হন। ইট দ্বারা তৈরি এই
মন্দিরের গায়ে পোড়ামাটির ফলকে মধ্যযুগের শেষদিকে বাংলার সামাজিক জীবনের নানা
কাহিনি বিবৃত রয়েছে, উৎকীর্ণ হয়েছে রামায়ণ, মহাভারত ও বিভিন্ন পৌরাণিক
কাহিনির খন্ডচিত্র। সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি এ চারটি শাস্ত্রীয় যুগের পৌরাণিক
কাহিনিগুলো মন্দিরের চার দেয়ালে চিত্রায়িত। তাই বৈদিক চিত্রকাহিনি সংবলিত
টেরাকোটায় আচ্ছাদিত মন্দিরটি দেখলে মনে হবে এ যেন চার খন্ডে শিল্প খচিত এক
পৌরাণিক মহাকাব্যের দৃশ্যমান উপস্থাপনা। এ মন্দিরের টেরাকোটা কখনো আপনাকে নিয়ে
যাবে মধ্যযুগীয় বাংলায়, আবার কখনো উপস্থাপন করবে পৌরাণিক কাহিনি। ১ মিটার
উঁচু এবং ১৮ মিটার বাহুবিশিষ্ট বর্গাকার বেদির ওপর এ মন্দির প্রতিষ্ঠিত। মন্দিরের প্রত্যেক
বাহুর দৈঘর্য ১৬ মিটার। মন্দিরের প্রাঙ্গণ আয়তাকার হলেও পাথরের ভিত্তির ওপর দাঁড়ানো ৫০
ফুট উচ্চতার মন্দিরটি একটি বর্গাকার ইমারত, যা বর্গাকার প্রধান প্রকোষ্ঠ টিকে
কেন্দ্র্র করে গড়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে পড়ে থাকা কান্তজিউ মন্দিরে ব্যাপক
সংস্কার কাজ শুরু হয় স্থানীয় সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপালের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়।
তিনি জানান, কান্তজিউ মন্দির ও নয়াবাদ মসজিদের উন্নয়নে এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ (চল্লিশ)
কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। আগে ঢেপা নদীর ওপর ব্রিজ না থাকায় প্রায় ১০
কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে মন্দিরে যেতে হতো। পর্যটকদের দুর্দশা লাঘবে মন্দিরে যাওয়ার জন্য
নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। ব্রিজের প্রবেশ মুখে তৈরি করা হয়েছে তেভাগা
আন্দোলনের স্মৃতিস্তম্ভ সিধু-কানু চত্বর। মন্দিরের সংস্কারের পাশাপাশি তৈরি করা হয়েছে
রাস্তাঘাট, পার্ক, মিউজিয়াম ইত্যাদি। প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার চলছে রাসবেদীর। এ
ছাড়াও পর্যটকদের সুবিধার্থে কান্তজিউ মন্দির থেকে নয়াবাদ মসজিদ পর্যন্ত সরাসরি
সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প করার
প্রস্তাবনাও বিবেচনাধীন আছে বলে জানান তিনি। প্রতিবছর কান্তজি মন্দির প্রাঙ্গণে রাশ
পূর্ণিমা মেলা বসে। মাসব্যাপী এই মেলায় ভিড় জমান অসংখ্য দর্শনার্থী আর পুণ্যার্থী।
রাশ পূর্ণিমা উপলক্ষে তখন দিনাজপুরের রাজবাড়ি থেকে কান্তজির বিগ্রহ নিয়ে আসা হয়মন্দিরে। সবকিছু মিলিয়ে তখন এই এলাকার গুরুত্ব যেন বেড়ে যায় বহুগুণ। দৃষ্টিনন্দন
ঐতিহাসিক কান্তজিউ মন্দির করোনার কারণে দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ থাকায় এখন
পর্যটকশূন্য। মন্দিরের তত্ত্বাবধায়ক আপন চন্দ্র রায় জানান, লকডাউনে সরকারি সিদ্ধান্তে
মন্দিরে দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধ রয়েছে। দেশের উত্তর অঞ্চলের দিনাজপুরের এই কান্তজিউ মন্দিরটি
দেখার মত। এখানে দেশে বিদেশের বিভিন্ন পর্যটকরা পরিদর্শন করেন।

আপনার পছন্দের লিংকের মাধ্যমে সংবাদটি শেয়ার করুন, আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021
Design & Development By : JM IT SOLUTION