
মুন্সীগঞ্জ সংবাদদাতা:
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কলমা ইউনিয়নের কালিবাড়ি এলাকায় ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ তুলে সালিশি বিচারকে পুঁজি করে অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা হলেন সোরহাব শেখ ও সালাম, যারা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সালিশি বিচারকের ভূমিকায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, এক বৃদ্ধ দাদার বিরুদ্ধে তার নিজ নাতনিকে ধর্ষণের অভিযোগ ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে চাপে ফেলা হয়। বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পরিবারটি চরম মানসিক ও সামাজিক সংকটে পড়ে। পরে অভিযুক্তরা সালিশের নামে ঘটনাটি ‘মীমাংসা’ করার প্রস্তাব দেন।
অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পুলিশের ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই বৃদ্ধার কাছ থেকে প্রায় ৭০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। টাকা না দিলে বিষয়টি আরও বড় আকারে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল বলছে, মিথ্যা অপবাদকে হাতিয়ার বানিয়ে এ ধরনের সালিশি বাণিজ্য সমাজে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে এবং নিরীহ মানুষ এর শিকার হচ্ছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কিছু ব্যক্তি সালিশের নামে প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে, তবে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুস সালাম মুঠোফোনে জানান, শিশুটি কে তার নানির কাছে লালন পালন এর জন্য দিয়েছি। তার ভরনপোষণ এর জন্য ৭০ হাজার টাকা শিশুটির নানির নিকট দেওয়া হয়েছে।
এদিকে এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিকরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।