
ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই বিশ্বের কোটি মানুষের আবেগের বিস্ফোরণ। কিন্তু আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে এক অদ্ভুত অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুই দেশ ভারত ও চীন সঙ্গে বাংলাদেশের বহু দর্শক হয়তো এবার খেলা দেখার সুযোগই নাও পেতে পারেন। কারণ, এখনো পর্যন্ত এই বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এই দেশগুলোর।
ভারতে সমস্যার মূল কারণ অর্থনৈতিক দর-কষাকষি। ফিফা যেখানে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ প্রত্যাশা করছে, সেখানে রিলায়েন্স ও ডিজনি যৌথ উদ্যোগ মাত্র ২০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছে। যা ফিফার চাহিদার তুলনায় অনেক কম। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা এখনো হয়নি। অন্যদিকে সনিও আলোচনায় অংশ নিলেও শেষ পর্যন্ত প্রস্তাব দেয়নি।
চীনের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি অনিশ্চিত। আগের বিশ্বকাপগুলোতে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা সিসিটিভি আগেভাগেই স্বত্ব কিনে প্রচার শুরু করত। কিন্তু এবার এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, যা স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে।
বাংলাদেশের পরিস্থিতিও ভিন্ন নয়। ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে দেশের দর্শকদের আগ্রহ সবসময়ই ব্যাপক হলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠান সম্প্রচার স্বত্ব কেনার আনুষ্ঠানিক অগ্রগতি দেখায়নি। ফলে এখানকার দর্শকদের জন্যও বিশ্বকাপ দেখার বিষয়টি অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
ফিফা ২০২৬ ও ২০৩০ বিশ্বকাপের জন্য প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ টাকার হিসেবে প্রায় ১২০০ কোটি টাকার কাছাকাছি একটি প্যাকেজ মূল্য নির্ধারণ করেছে বলে জানা গেছে। এমন বড় মূল্যের বাজেটের জন্য অনিশ্চিতার মুখে এশিয়ার এই তিন দেশ।
২০২২ সালের বিশ্বকাপে ডিজিটাল ও সামাজিক মাধ্যমে মোট দর্শনঘণ্টার প্রায় অর্ধেকই এসেছিল চীন থেকে। ভারত ও চীন মিলিয়ে ডিজিটাল দর্শকের বড় একটি অংশ গঠন করেছিল। তবুও এই দুই বড় বাজারে সম্প্রচার অনিশ্চিত থাকায় বিশ্বকাপের বৈশ্বিক প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতে ফুটবলের জনপ্রিয়তা ক্রিকেটের মতো নয়। তার ওপর এবারের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে ফলে ম্যাচগুলো ভারতীয় সময় অনুযায়ী গভীর রাতে সম্প্রচারিত হবে। এতে দর্শকসংখ্যা কমতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সম্প্রচার সংস্থাগুলো।
এছাড়া বিজ্ঞাপন বাজারেও কিছুটা মন্দাভাব রয়েছে, যা বিনিয়োগের আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করে সম্প্রচার স্বত্ব কেনা অনেক প্রতিষ্ঠানের কাছেই ঝুঁকিপূর্ণ মনে হচ্ছে।
২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হতে আর খুব বেশি সময় নেই। জুনের ১১ তারিখ থেকে টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার কথা। এর মধ্যে সম্প্রচার চুক্তি, প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি এবং বিজ্ঞাপন বিক্রির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভারত, চীন ও বাংলাদেশ মিলে বিশ্বের এক বিশাল ফুটবল দর্শকগোষ্ঠী। চীনে প্রায় ২০ কোটি, ভারত ও বাংলাদেশেও কয়েক কোটি অনুরাগী রয়েছেন। ফিফার জন্যও এই বাজারগুলো গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাণিজ্যিক হিসাব আর সময়ের অমিলে এখন সবকিছু ঝুলে আছে।