
ইবাদতে ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নতের পার্থক্য জানা জরুরি। অজ্ঞতার কারণে অনেকেই সুন্নত আমল বাদ পড়লে নামাজ ভেঙে গেছে মনে করে দুশ্চিন্তায় পড়েন। যেমন বিতির নামাজে দোয়া কুনুতের আগে তাকবির ও হাত উঠানো নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা যায়। এ বিষয়ে প্রমাণিত ফিকহি নির্দেশনা জানা থাকলে দ্বিধা দূর হয়।
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে- বিতির নামাজে যদি ভুলে ‘আল্লাহু আকবর’ না বলা হয় এবং হাত না উঠানো হয়, তাহলে কি নামাজ শুদ্ধ হবে? এক্ষেত্রে কি সাহু সেজদা দিতে হবে?
ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী এর উত্তর হলো- হ্যাঁ, এতে নামাজ শুদ্ধ হবে। এ কারণে নামাজ নষ্ট হবে না বা ফাসেদ হবে না। কারণ, দোয়া কুনুতের আগে তাকবির বলা ও হাত উঠানো সুন্নত; এটি ফরজ বা ওয়াজিব নয়। তাই ভুলবশত তা না করলে নামাজ সহিহ থাকে। এজন্য সাহু সেজদা দেওয়াও জরুরি নয়।
হানাফি মাজহাবের অভিমত
হানাফি মাজহাবের স্বীকৃত গ্রন্থগুলোতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, দোয়া কুনুতের আগে তাকবির বলা সুন্নত।
আল-বাহরুর রায়েক (২/৯৬) গ্রন্থে বলা হয়েছে- ‘দোয়া কুনুতের তাকবিরের বিষয়ে কারো কারো মতে সাহু সেজদা ওয়াজিব। তবে মূলনীতির আলোকে (এটির জন্য) সাহু সেজদা ওয়াজিব নয়, কেননা এ ব্যাপারে কোনো স্পষ্ট দলিল নেই।’
একই রকম মত পাওয়া যায় অন্যান্য নির্ভরযোগ্য গ্রন্থগুলোতেও। যেমন- রদ্দুল মুহতার: ১/৪৬৮; তাতারখানিয়া: ২/৩৯৮; শরহুল মুখতাসারিল কারখি, কুদুরি: ১/৬১০।
অতএব, হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, তাকবির ও হাত উঠানো সুন্নত; ছুটে গেলে নামাজের শুদ্ধতায় কোনো প্রভাব পড়ে না এবং সাহু সেজদা ওয়াজিব হয় না।
মোট কথা, বিতিরসহ যেকোনো নামাজে ভুলবশত কোনো সুন্নত বাদ পড়লে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। এতে সাহু সেজদা ছাড়াই নামাজ শুদ্ধ হবে। তবে, নামাজের প্রতিটি সুন্নত, আদব ও ওয়াজিবের প্রতি যত্নবান থাকা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব। এতে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও অধিক সওয়াব লাভের আশা করা যায়।
