1. jmitsolution24@gmail.com : News Desk : News Desk
  2. livenewsbd24@gmail.com : livenews24bd : Mehedi Hasan
  3. news.livenews24bd@gmail.com : LN24BD DESK : LN24BD DESK
ন্যায়বিচার যেন বিলম্বিত না হয়: প্রধান বিচারপতি - Livenews24bd সত্যের সাথে প্রতিদিন
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২৬ অপরাহ্ন

ন্যায়বিচার যেন বিলম্বিত না হয়: প্রধান বিচারপতি

Reporter Name
  • প্রকাশিত : শনিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ১০৬ শেয়ার এবং সংবাদটি পড়েছেন।

ন্যায়বিচার যাতে বিলম্বিত না হয় সেটি নিশ্চিত করতে তাগিদ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। তিনি বলেছেন, বিচারে বিলম্ব হ্রাস করা নিছক প্রশাসনিক লক্ষ্য নয়, বরং এটি নৈতিক বাধ্যতামূলক।

শনিবার (৭ ডিসেম্বর) ‘বিচারিক স্বাধীনতা ও দক্ষতা’ শীর্ষক এক কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন তিনি।

রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত এই কনফারেন্সে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিগণ ও নিম্ন আদালতের বিচারকরা অংশ নেন।

১৯৭১ সালের শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, যাদের আত্মত্যাগ আমাদের স্বাধীন জাতির ভিত্তিস্থাপন করেছিল। বিজয়ের এই মাস ডিসেম্বর, তাদের অতুলনীয় সাহস এবং উৎসর্গের একটি শক্তিশালী অনুস্মারক হিসেবে কাজ করে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র নেতৃত্বাধীন বিপ্লবের দৃঢ় চেতনাকেও স্মরণ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, জুলাই বিপ্লব নিপীড়নকে উৎখাত এবং ন্যায়বিচার, সাম্য এবং মানবতা পুনরুদ্ধারের লড়াই।

তিনি আরও বলেন, আমাদের ইতিহাসের এই সংজ্ঞায়িত মুহূর্তগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ন্যায়বিচারের সন্ধান একটি ক্ষণস্থায়ী প্রচেষ্টা নয় বরং একটি আজীবন প্রতিশ্রুতি যা আমাদের বিচারিক মিশনের ভিত্তি তৈরি করে।

বিলম্বিত বিচারের কারণে এক বিচারপ্রার্থীর দুর্দশনার কথা তুলে ধরে ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, সম্প্রতি একজন বিচারপ্রার্থী আপিল বিভাগ বেঞ্চের কাছে যান। ওই বিচারপ্রার্থী কাঁপাকণ্ঠে কথা বললেন। কান্নায় ভেঙে পড়েন। বিলম্বিত বিচারের কারণে ওই বিচারপ্রার্থী তার দুর্দশা কথা তুলে ধরেন। তার কষ্ট দেখে আমি তাকে আশ্বস্ত করেছিলাম যে আগামী মাসে তার মামলার শুনানি হবে। তার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছে যে, বিচারে বিলম্ব হ্রাস করা নিছক প্রশাসনিক লক্ষ্য নয়, বরং এটি নৈতিক বাধ্যতামূলক।

প্রধান বিচারপতি বলেন, আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, ন্যায়বিচার যাতে বিলম্বিত না হয়।

বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি জানান, প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার, পদ্ধতিগত সংস্কারের মাধ্যমে আইনি সহায়তায় বিচারিক কার্যক্রম আরও সহজ করা হচ্ছে।

সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, বিচার বিভাগের ওপরে গৌরবপূর্ণ আস্থা, সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করি।

তিনি বলেন, গত ২১ সেপ্টেম্বর সারাদেশের বিচারকদের উপস্থিতিতে এক সভায় বিচার বিভাগীয় সংস্কারের জন্য একটি ব্যাপক রোডম্যাপ উন্মোচন করেছি। এই উদ্যোগটি আমাদের বিচার বিভাগকে শক্তিশালী করতে এবং সততা ও দক্ষতার সঙ্গে জনগণের সেবা করার ক্ষমতাকে শক্তিশালী করার জন্য আমার দৃষ্টিভঙ্গির একটি ভিত্তি।

প্রধান বিচারপতি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে শক্তিশালী করতে বিচার বিভাগের জন্য একটি পৃথক সচিবালয় তৈরির প্রক্রিয়া ঘোষণা করেছি।

তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং যোগ্যতা প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের জন্য একটি বিচার বিভাগীয় নিয়োগ কাউন্সিল গঠনে সরকারের কাছে প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ন্যায়বিচারের অ্যাক্সেসের গুরুত্বপূর্ণ গুরুত্বকে স্বীকৃতি দিয়ে, আইনি সহায়তা পরিষেবার জন্য একটি ক্যাপাসিটি টেস্ট চালু করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রিকে ১২ দফা নির্দেশনাবলী মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একটি হেল্পলাইন প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছি যাতে সিস্টেমে নাগরিকদের নিরবচ্ছিন্ন আইনি তথ্য সেবা প্রাপ্তি সহজতর হয়। যেন স্বচ্ছতা এবং দক্ষতা নিশ্চিত হয়।

প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অবশ্যই দক্ষতার পরিপূরক হতে হবে। আমরা কেস ব্যাকলগ, বিলম্ব এবং পদ্ধতিগত অদক্ষতা দ্বারা সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে গভীরভাবে সচেতন। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার জন্য একটি বহুমুখী পদ্ধতির প্রয়োজন, যা উদ্ভাবন, পরিশ্রম এবং দূরদর্শিতাকে একত্রিত করে। তিনি বলেন, কেস ম্যানেজমেন্ট প্রসেসকে স্ট্রিমলাইন করার জন্য কাজ করছি। আদালতের কার্যক্রমকে আরও দক্ষ ও স্বচ্ছ করতে প্রযুক্তি ব্যবহার করছি। ডিজিটালাইজেশন আর বিলাসিতা নয়; এটি একটি প্রয়োজনীয়তা। আধুনিক সরঞ্জাম এবং প্রযুক্তিকে একীভূত করার মাধ্যমে, বিলম্ব কমাতে, স্বচ্ছতা বাড়াতে এবং মামলাকারীদের আরও নির্বিঘ্ন সেবা প্রদানে আমরা বদ্ধ পরিকর।

প্রধান বিচারপতি বলেন, এক্ষেত্র ইউএনডিপি অনুঘটক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সক্ষমতা-নির্মাণ কর্মসূচি, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং বিচার বিভাগের অনন্য প্রয়োজন অনুসারে নীতিগত উন্নয়নে আরও সহায়তা করতে পারে ইউএনডিপি।

আপনার পছন্দের লিংকের মাধ্যমে সংবাদটি শেয়ার করুন, আমাদের সাথেই থাকুন

আরও সংবাদ দেখুন