
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশের পণ্য রফতানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৪৭৩ কোটি মার্কিন ডলার। গত এক বছরের মধ্যে কোনো একক মাসে এটিই সর্বোচ্চ রফতানি আয়। তবে গত অর্থবছরের একই মাসের তুলনায় রফতানি আয় সামান্য কমেছে।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই মাসে মোট রফতানি হয়েছে ৪৭২ কোটি ৭৪ লাখ ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই মাসে রফতানি হয়েছিল প্রায় ৪৭৭ কোটি ডলার। সে হিসাবে এবার রফতানি আয় কমেছে শূন্য দশমিক ৯০ শতাংশ।
ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১২ মাসে জুলাইয়ের চেয়ে বেশি রফতানি আয় আর কোনো মাসে হয়নি। গত আগস্টে রফতানি ছিল ৩৯২ কোটি ডলার, সেপ্টেম্বরে তা কমে দাঁড়ায় ৩৬৩ কোটি ডলারে। অক্টোবরে বেড়ে ৪১৩ কোটি ডলার হলেও নভেম্বরে আবার নেমে আসে ৩৮৯ কোটি ডলারে। ডিসেম্বরে রফতানি হয় ৩৯৭ কোটি ডলার।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে রফতানি বেড়ে ৪৪১ কোটি ডলারে পৌঁছালেও ফেব্রুয়ারিতে তা কমে ৩৫০ কোটি এবং মার্চে ৩৪৮ কোটি ডলারে নেমে আসে। এপ্রিলে ৪০০ কোটি, মে মাসে ৪৪০ কোটি এবং জুনে ৪২০ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়। ফলে জুলাইয়ের ৪৭২ কোটি ৭৪ লাখ ডলারের আয় গত এক বছরের সর্বোচ্চ মাসিক রফতানি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক থেকেই জুলাই মাসে এসেছে ৩৮৯ কোটি ডলার। জুন মাসে এ খাতের রফতানি ছিল ৩৩৯ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে পোশাক রফতানি বেড়েছে প্রায় ৫০ কোটি ডলার। তবে গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় এ খাতের রফতানি ১ দশমিক ৯২ শতাংশ কমেছে। তখন পোশাক রফতানি হয়েছিল ৩৯৬ কোটি ডলার।
ইভিন্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রফতানিতে নেতিবাচক প্রবণতার মধ্যে জুলাই মাসে এত বড় রফতানি আয় ইতিবাচক খবর। তবে রফতানি আদেশ কম থাকায় এ পরিসংখ্যান নিয়ে কিছুটা প্রশ্নের সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইপিবির তথ্য যদি একই চিত্র দেখায়, তাহলে এটি অবশ্যই স্বস্তিদায়ক।
তার মতে, মৌসুমি কারণ, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কিংবা পরিবহন-সংক্রান্ত জটিলতায় জুনের কিছু চালান জুলাইয়ে রফতানি হওয়ায় এ প্রবৃদ্ধি দেখা যেতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই মাসে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রফতানি প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে ১৩ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। ওষুধ রফতানি বেড়েছে প্রায় ১৯ শতাংশ। পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি বেড়েছে ৫৪ শতাংশ, যার পরিমাণ প্রায় ৯ কোটি ডলার।
এ ছাড়া হোম টেক্সটাইল খাতের রফতানি প্রায় ১৪ শতাংশ বেড়ে ৮ কোটি ডলারের কাছাকাছি দাঁড়িয়েছে। কৃষিপণ্য রফতানি হয়েছে ৮ কোটি ২৩ লাখ ডলার। যদিও এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ কম, তবে গত ১২ মাসের অধিকাংশ মাসের তুলনায় রফতানি বেশি হয়েছে।