1. jmitsolution24@gmail.com : News Desk : News Desk
  2. livenewsbd24@gmail.com : livenews24bd : Mehedi Hasan
  3. news.livenews24bd@gmail.com : LN24BD DESK : LN24BD DESK
প্রচলিত ১১ বিদআত ও ভিত্তিহীন প্রথা: ইসলামের নির্দেশনা - Livenews24bd সত্যের সাথে প্রতিদিন
সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:২৭ অপরাহ্ন

প্রচলিত ১১ বিদআত ও ভিত্তিহীন প্রথা: ইসলামের নির্দেশনা

ধর্ম ডেস্ক।।
  • প্রকাশিত : সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ২ শেয়ার এবং সংবাদটি পড়েছেন।

ইসলামের মৌলিক শিক্ষা হলো- আকিদা, ইবাদত ও ধর্মীয় আচরণের ক্ষেত্রে কোরআন ও সুন্নাহর অনুসরণ করা। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো আমল করা হলে তা কোরআন ও রাসুলুল্লাহ (স.)-এর নির্দেশনার আলোকে হওয়া জরুরি।

সময় ও সমাজের পরিবর্তনের সঙ্গে মুসলিম সমাজে বিভিন্ন রীতি, প্রথা ও ধর্মীয় আচরণের প্রচলন হয়েছে। এর কিছু ইসলামের মূল শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, আবার কিছু বিষয়ে শরয়ি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাই কোনো আমল বা বিশ্বাসকে দ্বীনের অংশ হিসেবে গ্রহণের আগে তার ভিত্তি ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

রাসুলুল্লাহ (স.) দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু সংযোজনের ব্যাপারে সতর্ক করে ইরশাদ করেছেন- ‘যে ব্যক্তি আমাদের এ দ্বীনে এমন কিছু নতুন উদ্ভাবন করবে যা এর অংশ নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।’ (সহিহ বুখারি: ২৬৯৭; সহিহ মুসলিম: ১৭১৮)

নিচে সমাজে প্রচলিত ১১টি বিদআত, ভিত্তিহীন প্রথা ও বিতর্কিত ধর্মীয় আচরণ নিয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হলো। যেসব বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে, সেসব বিষয়েও ভারসাম্যপূর্ণভাবে দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

১. পূর্বপরিকল্পিত হিল্লা বিবাহ

তিন তালাকের পর পূর্বপরিকল্পনা করে অন্য ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে দিয়ে পুনরায় প্রথম স্বামীর কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার যে ব্যবস্থা করা হয়, তাকে হিল্লা বলা হয়। শুধু প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে এমন বিয়ের আয়োজন শরিয়তসম্মত নয়।

এটি শরিয়তের বিধান এড়িয়ে যাওয়ার একটি পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত। রাসুলুল্লাহ (স.) এ ধরনের হিল্লার সঙ্গে জড়িতদের ব্যাপারে কঠোর সতর্ক করেছেন। (সুনানে আবু দাউদ: ২০৭৬; সুনানে তিরমিজি: ১১১৯)

তালাক ও পুনর্বিবাহের বিধান নিয়ে আলেমদের বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। তবে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সাময়িক বিয়ের মাধ্যমে আগের স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা ইসলামের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

২. কুলখানি ও চল্লিশা

মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া, ইস্তেগফার ও সদকা করা ইসলামে উৎসাহিত করা হয়েছে। তবে মৃত্যুর পর তৃতীয় দিন, সপ্তম দিন, চল্লিশতম দিন বা নির্দিষ্ট কোনো দিনে বিশেষ আয়োজন করে সেটিকে ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা বিশেষ সওয়াবের আমল মনে করার পক্ষে সহিহ দলিল পাওয়া যায় না।

মৃত ব্যক্তির উপকারের জন্য শরিয়তসম্মত পদ্ধতিতে দোয়া ও সদকা করাই উত্তম।

৩. ‘মৃতের রূহ বাড়িতে ফিরে আসে’ এ বিশ্বাস

অনেক সমাজে এমন ধারণা প্রচলিত আছে যে, মৃত ব্যক্তির রূহ বৃহস্পতিবার, ঈদের রাত বা নির্দিষ্ট সময়ে বাড়িতে ফিরে আসে। এ ধরনের বিশ্বাসের পক্ষে কোরআন ও সহিহ সুন্নাহয় কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না।

মৃত্যুর পর মানুষের জীবন বারজাখের জগতের অধীন। আল্লাহ বলেন, ‘তাদের সামনে থাকবে বারজাখ, পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত।’ (সুরা মুমিনুন: ১০০)

তাই মৃত ব্যক্তির রূহ দুনিয়ায় ফিরে আসে- এ ধরনের ধারণা থেকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

৪. কবরকেন্দ্রিক বিদআতি রীতি

কবর জেয়ারত ইসলামে অনুমোদিত। এটি মানুষকে মৃত্যু ও আখেরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তবে কবরকে কেন্দ্র করে এমন কোনো বিশেষ আমল, অনুষ্ঠান বা ইবাদতের পদ্ধতি চালু করা, যার ভিত্তি কোরআন ও সুন্নাহয় নেই, তা থেকে বিরত থাকা জরুরি।

মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা যায়, কিন্তু কবরকে বিশেষ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের কেন্দ্র বানানোর কোনো শরয়ি ভিত্তি নেই।

৫. মাজারে মানত

মানত একটি বিধান, যা একমাত্র আল্লাহর জন্য সম্পন্ন হওয়া উচিত। কোনো মাজার বা ব্যক্তির নামে মানত করার বিষয়ে ইসলামের তাওহিদের মূলনীতির সঙ্গে অসঙ্গতির কথা আলেমরা উল্লেখ করেছেন।

কোনো ব্যক্তির স্মরণে সম্মান প্রকাশ করা এবং তার নামে ইবাদত বা মানত করা এক বিষয় নয়। মুমিনের উচিত সব ধরনের প্রার্থনা ও সাহায্যের আবেদন একমাত্র আল্লাহর কাছেই করা।

৬. কবর পাকা করা ও চেরাগ জ্বালানো

কবরের মর্যাদা রক্ষা করা ইসলামের শিক্ষা। তবে কবরের ওপর স্থায়ী পাকা স্থাপনা, গম্বুজ নির্মাণ বা চেরাগ জ্বালানোকে ধর্মীয় কাজ মনে করার কোনো শরয়ি ভিত্তি নেই।

কবরকে ইবাদত বা অতিরিক্ত সম্মানের কেন্দ্র বানানো থেকে ইসলাম সতর্ক করেছে।

৭. ওরস মাহফিল

কোনো পীর, দরবেশ বা ধর্মীয় ব্যক্তির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বার্ষিক আয়োজন হিসেবে ‘ওরস মাহফিল’ পালনের প্রথা দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রচলিত রয়েছে।

কোনো ব্যক্তির স্মরণে সামাজিক আয়োজন করা এবং সেটিকে ধর্মীয় ইবাদত হিসেবে পালন করা এক বিষয় নয়। তবে এ ধরনের আয়োজনকে ধর্মীয় কর্তব্য বা বিশেষ সওয়াবের কাজ মনে করার পক্ষে কোরআন ও সুন্নাহয় কোনো ভিত্তি পাওয়া যায় না।

অনেক সময় এসব আয়োজনে শরিয়তসম্মত নয় এমন বিভিন্ন বিষয় যুক্ত হয়ে যায়। কোনো ব্যক্তির প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা প্রকাশ বুজুর্গ ব্যক্তির শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে হওয়া উচিত।

৮. শবে বরাতের বিশেষ আয়োজন

শবে বরাতের ফজিলত ও এ রাতের গুরুত্ব নিয়ে আলেমদের মধ্যে বিভিন্ন মতামত রয়েছে। তবে এ রাতকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট কিছু পদ্ধতির ইবাদতকে দ্বীনের অপরিহার্য অংশ মনে করার বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

তাই এ বিষয়ে কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে নির্ভরযোগ্য আলেমদের কাছ থেকে সঠিক দিকনির্দেশনা নেওয়া উত্তম।

৯. শবে বরাতের হালুয়া-রুটি

শবে বরাত উপলক্ষে বিশেষ হালুয়া-রুটি তৈরি করা, বিতরণ করা বা এটিকে বিশেষ সওয়াবের কাজ মনে করার প্রচলন অনেক এলাকায় রয়েছে।

তবে নির্দিষ্ট এই খাবারকে বিশেষ ইবাদত বা সুন্নাহর অংশ হিসেবে গ্রহণ করার পক্ষে নির্ভরযোগ্য দলিল পাওয়া যায় না। সাধারণ খাবার হিসেবে এটি করা ভিন্ন বিষয়, কিন্তু এটিকে ধর্মীয় রীতি বা বিশেষ ফজিলতের আমল মনে করা থেকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

১০. দাঁড়িয়ে মিলাদকে বাধ্যতামূলক মনে করা

রাসুলুল্লাহ (স.)-এর প্রতি ভালোবাসা ঈমানের অংশ। তাঁর ওপর দরুদ পাঠ, তাঁর জীবন ও আদর্শ আলোচনা করা প্রশংসনীয়।

তবে মিলাদের সময় দাঁড়িয়ে কিয়াম করাকে বাধ্যতামূলক বা বিশেষ সুন্নাহ হিসেবে মনে করার বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কোনো আমলকে দ্বীনের আবশ্যিক অংশ মনে করার আগে তার শরয়ি ভিত্তি যাচাই করা জরুরি।

১১. সফর মাসের কুসংস্কার

ইসলামের দৃষ্টিতে কোনো মাস বা দিন নিজস্বভাবে অশুভ নয়। কিন্তু সমাজে সফর মাসকে অশুভ মনে করা, নির্দিষ্ট দিনকে বিপদের কারণ ভাবা বা এ উপলক্ষে বিশেষ আমল ও আচরণ পালনের প্রচলন দেখা যায়।

এ ধরনের বিশ্বাসের কোনো শরয়ি ভিত্তি নেই। মুসলমানের উচিত সব সময় আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং কুসংস্কার থেকে দূরে থাকা।

বিদআত ও ভিত্তিহীন প্রথা থেকে বাঁচার উপায়

১. কোরআন ও সুন্নাহর সঠিক জ্ঞান অর্জন করা।

২. কোনো আমল বা ধর্মীয় রীতি গ্রহণের আগে তার শরয়ি ভিত্তি যাচাই করা।

৩. নির্ভরযোগ্য ও বিজ্ঞ আলেমদের কাছ থেকে ধর্মীয় বিষয়ে জ্ঞান নেওয়া।

৪. সমাজে প্রচলিত কোনো রীতিকে শুধু প্রচলিত হওয়ার কারণে দ্বীনের অংশ মনে না করা।

৫. আবেগের পরিবর্তে দলিলের ভিত্তিতে আমল করার চেষ্টা করা। যেসব বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে ভিন্নমতের প্রতিও সম্মান বজায় রাখা।

ইসলামে ইবাদতের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে ইখলাস (একনিষ্ঠতা) ও সুন্নাহর অনুসরণের ওপর। কোনো আমল দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত থাকলেই তা ইসলামের অংশ হয়ে যায় না। তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত কোরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে নিজের বিশ্বাস ও আমল যাচাই করা এবং দ্বীনের মধ্যে ভিত্তিহীন সংযোজন থেকে সতর্ক থাকা। ধর্মীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নির্ভরযোগ্য আলেমদের সঠিক দিকনির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।

তথ্যসূত্র: সুরা মুমিনুন: ১০০; সহিহ বুখারি: ২৬৯৭; সহিহ মুসলিম: ১৭১৮; সুনানে আবু দাউদ: ২০৭৬; সুনানে তিরমিজি: ১১১৯

আপনার পছন্দের লিংকের মাধ্যমে সংবাদটি শেয়ার করুন, আমাদের সাথেই থাকুন

আরও সংবাদ দেখুন