
কলম্বিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় চোকো প্রদেশে ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে হতাহত এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে জানিয়েছেন প্রদেশিক গভর্নর।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে কলম্বিয়ার রাজধানী থেকে প্রায় ২৮০ কিলোমিটার পশ্চিমে সান হোসে দেল পালমার শহরের কাছে ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০৭ কিলোমিটার নিচে।
কম্পনটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে এটি কেবল কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতাতেই নয়, প্রতিবেশী দেশ ইকুয়েডর, পানামা এবং দূরবর্তী ভেনিজুয়েলাতেও বেশ ভালোভাবেই অনুভূত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে, বোগোতাসহ অনান্য শহরের অসংখ্য মানুষ আতঙ্কিত হয়ে বহুতল আবাসিক ভবন ও অফিস ছেড়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন। রাস্তায় জমায়েত হওয়া এসব মানুষের চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ এবং অনেককে রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করতে দেখা গেছে।

এদিকে ভূমিকম্পের পরপরই এক এক্স বার্তায় চোকোর গভর্নর নুবিয়া ক্যারোলিনা কর্ডোবা-কুরি বলেন, ‘আমরা এইমাত্র একটি বড় ভূমিকম্পের সম্মুখীন হয়েছি। আমরা আফটারশক নিয়ে উদ্বিগ্ন। যদিও এর কেন্দ্রস্থল সান হোসে দেল পালমারের কাছে ছিল, রাজধানী কুইবদোতেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং ভবনগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ের কাজ শুরু হয়েছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
অন্যদিকে বোগোতার মেয়র কার্লোস গালান জানিয়েছেন, রাজধানীতে বড় কোনো ধস না হলেও কিছু ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে।

এরআগে কলম্বিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইউনিট (ইউএনজিআরডি) বলেছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৬ এবং গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৭৯ কিলোমিটার নিচে।
প্রসঙ্গত, প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত হওয়ায় কলম্বিয়া একটি অত্যন্ত ভূমিকম্প-প্রবণ দেশ। এরআগে গত ২৫ জুলাই দেশটির মন্তেনিরি অঞ্চলে ৪.৭ মাত্রার একটি মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল।
সূত্র: সিএনএন, রয়টার্স