
মাদারীপুর প্রতিনিধি:
হাতে হ্যান্ডকাফ। অবস্থান পুলিশের হেফাজতে। আশপাশে ডিউটি অফিসারসহ একাধিক পুলিশ সদস্য। অথচ সেই অবস্থাতেই মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে টিকটক ভিডিও বানাচ্ছেন এক যুবক। মাদারীপুর সদর থানার ভেতরের এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। উঠেছে নানা প্রশ্ন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ‘তানভীর নুসু’ নামের এক যুবককে হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় থানার ভেতরে দাঁড়িয়ে টিকটক করতে দেখা যায়।
ভিডিও ধারণের সময় তার আশপাশে পুলিশের কয়েকজন সদস্যকে স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—পুলিশের হেফাজতে থাকা এবং হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় ওই যুবকের হাতে মোবাইল ফোন এলো কীভাবে?পুলিশের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, মাদারীপুর পৌর শহরের কলেজ রোড এলাকায় মারামারির ঘটনায় প্রায় ৮ থেকে ১০ দিন আগে তানভীর নুসুকে আটক করা হয়েছিল। পরে যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।তবে থানার ভেতরে হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ভিডিও ধারণের বিষয়টি সামনে আসার পর দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একজন হেফাজতভুক্ত ব্যক্তির কাছে মোবাইল ফোন পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হলো কীভাবে, আর পুলিশের চোখের সামনেই ভিডিও ধারণের বিষয়টি কেন নজরে এলো না—এখন সেটিই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
তবে থানার ভেতরে পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় হ্যান্ডকাফ পরা এক ব্যক্তির হাতে মোবাইল ফোন এবং সেই ফোনে টিকটক ভিডিও—ঘটনাটি শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই নয়, পুলিশের হেফাজত ব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বশীলতা নিয়েও তৈরি করেছে বড় প্রশ্ন।এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “কারা টিকটক করেছে, বিষয়টি আমার জানা নেই। জেনে আপনাদের জানাব।”