মাদারীপুর প্রতিনিধি:
মাদারীপুরের শিবচরে তেলবাহী ট্রাক ডাকাতির ঘটনায় জড়িত দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় লুন্ঠিত ট্রাক, তেল বিক্রির নগদ ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা এবং ডাকাতির সময় ব্যবহৃত বাংলাদেশ পুলিশের খোয়া যাওয়া বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে ট্রাকচালক ইছরাফিল হোসেন মিয়া ও হেল্পার আবু বক্কর ঢাকার একটি স্থান থেকে ৭৫ ব্যারেল পামওয়েল (১৩,৯৫০ লিটার), যার আনুমানিক মূল্য ২৫ লাখ ১১ হাজার টাকা, নিয়ে ঝিনাইদহের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পরদিন ১৩ এপ্রিল রাত ১২টা ২৫ মিনিটে শরীয়তপুর জেলার নাওডোবা এলাকায় পৌঁছালে একটি অজ্ঞাতনামা পিকআপ দিয়ে ট্রাকটির গতিরোধ করে ডাকাতদল।
ডাকাতরা ট্রাকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চালক ও হেল্পারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। পরে তাদের হাত-পা ও চোখ বেঁধে শিবচর থানাধীন মাদবরেরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি এলাকায় ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের পাশে ফেলে রেখে ট্রাকসহ ঢাকার দিকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় শিবচর থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করা হয়।

মাদারীপুর জেলা পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ সালাহ উদ্দিন কাদেরের নেতৃত্বে শিবচর থানা পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও সোনারগাঁও, নরসিংদী ও কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ডাকাত দলের দুই সদস্য আজিজুল (৩১) ও মোকলেস (৩৩) কে গ্রেফতার করা হয়।
এ সময় লুন্ঠিত ট্রাক, তেল বিক্রির নগদ ১,৯২,০০০ টাকা, বাংলাদেশ পুলিশের খোয়া যাওয়া ৪টি সাউন্ড গ্রেনেড, ৩টি টিয়ার গ্যাস, ১টি ব্যাটন ও ১টি পুলিশের হেলমেট উদ্ধার করা হয়।
মাদারীপুর জেলার শিবচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ সালাহ উদ্দিন কাদের বলেন, “ঘটনার পরপরই আমরা গুরুত্বসহকারে তদন্ত শুরু করি। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, “মাদারীপুর জেলা পুলিশ ডাকাতি, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধ দমনে সর্বদা তৎপর রয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”