
নুর মোহাম্মদ, সুনামগঞ্জ।।
সুনামগঞ্জ-১ আসনে ত্রিয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে উত্তেজনা বেড়েছে। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা সক্রিয় হলেও ভোটারদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও ছাত্রনেতা হিসেবে মাঠে তার জনপ্রিয়তা এখন সবচেয়ে বেশি।
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন কামরুজ্জামান কামরুল। নব্বইয়ের দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ২০০৪ সালের ডামি নির্বাচন বিরোধী আন্দোলন এবং জুলাই আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। স্থানীয়রা মনে করেন, জীবন বাজি রেখে লড়াই করা নেতা সংসদেও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় অটল থাকবেন।
বিএনপির দুঃসময়ে তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে তিনি নিজের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করেছেন। চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে সাধারণ মানুষের পাশে থাকা এবং সমস্যার সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা তার জনপ্রিয়তার মূল কারণ। এক ভোটার বলেন, “চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে তিনি রাতদিন মানুষের পাশে ছিলেন। এবার যদি সংসদে যান, আমাদের এলাকার উন্নয়ন হবে।”
করোনা মহামারীর সময় তিনি ঝুঁকি নিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামে ত্রাণ ও ওষুধ পৌঁছে দিয়েছেন। ২০২২ সালের বন্যায়ও নিজে নৌকা চালিয়ে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এক বন্যাদুর্গত বলেন, “বন্যায় ঘরবাড়ি ভেসে গেলে অনেকেই আসেনি, কিন্তু কামরুজ্জামান কামরুল ভাই খাবার ও ওষুধ নিয়ে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি আলোচনার শীর্ষে। তরুণ ভোটাররা তাকে আধুনিক ও প্রাণবন্ত নেতা হিসেবে দেখছেন। তাহিরপুর বাদাঘাট ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, কামরুজ্জামান কামরুল সাহেব সংসদে গেলে আমাদের এলাকার যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মাঠ পর্যায়ে তার জনপ্রিয়তা স্পষ্ট। তবে দলীয় মনোনয়ন পাওয়াই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। একজন বিশ্লেষক বলেন, “সুনামগঞ্জ-১ আসনের ভোটের হিসাব পরিষ্কার। জনগণ এখন কামরুজ্জামান কামরুলের দিকেই ঝুঁকছে।”
তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক মেহেদী হাসান (উজ্জ্বল) বলেন, “২০১৮ সালের নির্বাচনে আমাদের বিজয় কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এবার বিএনপি আমাদের নেতা কামরুজ্জামান কামরুল ভাইকে ধানের শীষ প্রতীক দেবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
২০১৮ সালে নজির হোসেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সেই সময় বিজয় ছিনিয়ে আনার জন্য কামরুজ্জামান কামরুল মাঠে কাজ করেছিলেন। ২০২৪ সালে নজির হোসেনের মৃত্যুর পর সুনামগঞ্জ-১ আসনে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে আছেন কামরুজ্জামান কামরুল।
গ্রামে-গঞ্জে মানুষের পাশে থাকা, নিয়মিত সমস্যা সমাধান করা এবং তরুণ ভোটারদের আস্থা অর্জনের কারণে তার নির্বাচনী সম্ভাবনা উজ্জ্বল। স্থানীয়রা আশা করছেন, মনোনয়ন পেলে তিনি সুনামগঞ্জ-১ আসনের উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবেন।
