1. jmitsolution24@gmail.com : News Desk : News Desk
  2. livenewsbd24@gmail.com : livenews24bd : Mehedi Hasan
  3. news.livenews24bd@gmail.com : LN24BD DESK : LN24BD DESK
গাঁজা খেতে না দেওয়ায় পূজায় বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ - Livenews24bd সত্যের সাথে প্রতিদিন
শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
তারেক রহমান সরকার দেশকে মরুভূমির হাত থেকে রক্ষায় খাল খনন ও নদী ভাঙ্গন এলাকায় মানুষের পাশে দাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে-প্রতিমন্ত্রী আজাদ গাঁজা খেতে না দেওয়ায় পূজায় বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ ঘাটাইলে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা। বাসুদেবপুর চন্দ্র কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজে মৃত্যু ও অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা আন্তর্জাতিক পিস অ্যাওয়ার্ড পেলেন নবকাম পল্লী কলেজের অধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান টঙ্গীবাড়ীতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন নিষিদ্ধ সংগঠন আ.লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে জামালপুরে শ্রমিকদলের বিক্ষোভ মিছিল  পলাশবাড়ীতে প্রায় ৩০ কিঃ মিঃ রাস্তায় বৃক্ষ রোপণ করে অমর হয়ে আছেন আব্দুল হাকিম স্যার নবীনগরে তিতাস বয়েজ ক্লাবের উদ্যোগ প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ও কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা কাশিয়ানীতে ১৩২ নং স্কুলের বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রে কাদা-ডাস্ট যুক্ত পাথরে ঢালাই, ঠিকাদারের দায়িত্বশীল লোক নেই

গাঁজা খেতে না দেওয়ায় পূজায় বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ

সঞ্জয় শীল, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)।।
  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৪ শেয়ার এবং সংবাদটি পড়েছেন।

 

‎ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে বুড়ী নদীর পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত শতবর্ষী নবীনগর কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানে পূজায় বাধা, মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মাদক সেবনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

জানা যায়, কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানে মাদকাসক্ত যুবককে গাঁজা খেতে না দেওয়ায় এ ঘটনাটি ঘটে। এ বিষয়ে ঘটনার সময়ে উপস্থিত স্থানিয় একজন সংবাদকর্মী ও বাউল সাধক রুহেল সরকার তাৎক্ষণিক ৯৯৯ – এ ফোন দিলে কৃর্তপক্ষে দ্রুত নবীনগর থানায় হট লাইনে যোগাযোগ করালে নবীনগর থানার কর্মকর্তা থানায় এসে অভিযোগ দিতে বলেন।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, বিকেল বেলা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শ্মশানের আশেপাশে, নদীর তীরের রাস্তা ও কবরস্থানের কাঁচা রাস্তার দেয়ালের আবডালে স্থানিয় কয়েকজন যুবকের আনাগোনা থাকে। সেখানে মাদক সেবনের ঘটনাও ঘটে বলে তাদের দাবি। প্রাত্যতিক দিনের মতো সন্ধ্যায় শ্মশানে পূজা দিতে গেলে বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া এবং প্রতিবাদ করলে গালাগালি, মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও করেছেন তারা।
‎
‎স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, প্রায় এক মাস আগে শ্মশানের ভেতর থেকে আনুমানিক ২০ থেকে ৩০ গজ বৈদ্যুতিক তার ও প্রায় ১২টি বাল্ব নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া শ্মশানে স্থাপিত মহাদেবের দুটি ত্রিশূলের একটি নিয়ে যাওয়া এবং অপরটি বাঁকিয়ে ফেলে রাখার অভিযোগ রয়েছে।
‎
‎সর্বশেষ গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে শ্মশানে পূজা দিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন পূজারি হরেন্দ্র বর্মন ও ধীরেন্দ্র বর্মন। তাদের অভিযোগ, কয়েকজন যুবক তাদের কাছে গাঁজা দাবি করেন। এতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের গালাগালি, মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয়।
‎
‎ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, একপর্যায়ে তাদের বলা হয়, ‘এখানে পূজা দিতে পারবে না, চলে যাও, না হলে অবস্থা খারাপ হবে।’ পরে ভয়ে পূজার সামগ্রী রেখে তারা শ্মশান থেকে চলে যান।
‎
‎ঘটনাটি শ্মশান পরিচালনা কমিটির সদস্যদের জানালে পূজা বন্ধ না করে পুনরায় শ্মশানে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। পরদিন ২৯ সেপ্টেম্বর পূজা দিতে গেলে শ্মশানের গেটে অভিযুক্ত যুবকদের দেখতে পেয়ে ভয়ে ফিরে আসেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
‎
‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় হিন্দু বাসিন্দা বলেন, তাদের সম্প্রদায়ের মানুষের শেষকৃত্যের গুরুত্বপূর্ণ স্থান এই মহাশ্মশান। সেখানে গিয়ে যদি ভয়ভীতি বা হয়রানির শিকার হতে হয়, তাহলে নিরাপদে পূজা ও ধর্মীয় আচার পালন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
‎
‎তাদের আরও অভিযোগ, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বললে বাড়িতে গিয়ে হামলা বা মারধরের আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে চাইছেন না।
‎
‎এদিকে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মী ফেসবুকে পোস্ট করলে নবীনগর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব সঞ্জয় সাহা তার ফেসবুক পোস্টে ঘটনাটিকে ‘গুজব’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানান। এ নিয়ে গত দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
‎
‎অভিযোগের বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মুঃ জালাল উদ্দিন ফাহিম, পিপিএম জানান, ফেসবুকে বিষয়টি দেখে তিনি উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভয়ভীতি দেখিয়ে পূজা বন্ধ করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক বিষয় নিয়ে যাচাই না করে মিথ্যা তথ্য ফেসবুকে প্রকাশের ক্ষেত্রেও সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
‎
‎অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) পিয়াস বসাক বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‎
‎নবীনগর কেন্দ্রীয় শ্মশান কমিটির সভাপতি সুবীর রঞ্জন সাহা জানান, শ্মশানে মাদক সেবনের দৃশ্য প্রতিদিনেই। মাদকসেবন নিয়ে হাতাহাতিও হয়।

‎এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা নবীনগরের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নানসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে মহাশ্মশানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হয়রানি ও ভয়ভীতি থেকে সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন।

আপনার পছন্দের লিংকের মাধ্যমে সংবাদটি শেয়ার করুন, আমাদের সাথেই থাকুন

আরও সংবাদ দেখুন