
ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ, ধ্বংসযজ্ঞ ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখছেন ফিলিস্তিনিরা। এরই অংশ হিসেবে গাজায় এক ব্যতিক্রমী গণবিবাহের আয়োজন করা হয়েছে। এতে একসঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন ২৫০ ফিলিস্তিনি দম্পতি।
ভালোবাসা, আশা ও নতুন জীবনের সূচনাকে উদ্যাপন করতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমর্থনপুষ্ট মানবিক ত্রাণ কর্মসূচি ‘অপারেশন শিভালরাস নাইট’ শুক্রবার (০৬ নভেম্বর) এই গণবিবাহের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে বিয়ে করতে আসা সায়েদ আল নাজার নামের এক যুবক বলেন, ‘আমরা যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতির মধ্যে বসবাস করছি। আমরা নিজেদের এলাকায়, নিজেদের বাড়িতে ফিরে যেতে চাই। বিয়ের মধ্য দিয়ে আমরা নতুন জীবন শুরু করছি।’
তবে এই আনন্দঘন আয়োজনের মধ্যেও অনেকের জীবনে রয়ে গেছে যুদ্ধের ক্ষত ও স্বজন হারানোর বেদনা।
গণবিবাহে অংশ নেওয়া তাসিল আবু মাতার নামের এক নারী জানান, অনুষ্ঠানে তার মা ও বোন উপস্থিত থাকলেও পশ্চিম তীরে অবস্থান করায় বাবা আসতে পারেননি। তার দাদি হুইলচেয়ার ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না। এ ছাড়া হামলায় আহত তাঁর এক ভাইয়ের চিকিৎসা চলছে।
তাসিল বলেন, পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতি ও ভাইয়ের অসুস্থতার কারণে তাদের আনন্দ পুরোপুরি পূর্ণতা পায়নি। তারপরও এই নতুন জীবনের সূচনায় তিনি আনন্দিত।
যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যেও ২৫০ দম্পতির এই বিয়ে গাজাবাসীর জীবনে নতুন করে স্বপ্ন দেখা এবং স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে উঠেছে।