
গোপালগঞ্জ:
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ওপর দিয়ে চলে যাওয়া রাজপাটের সেচ খালের জমি দখল দিয়ে পুকুর খননের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাশিয়ানী উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের চাকরিচ্যুত সাবেক চতুর্থ শ্রেণির একজন কর্মচারী বিরুদ্ধে এই অভিযোগ। উপজেলাধীন রাজপাট সেচ খাল দখল দিয়ে বাঁধ তৈরি ও পুকুর খননের ফলে কৃষি চাষাবাদে সেচ পানির সংকটের আশঙ্কাও করছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
এলাকাবাসী জানান, চাকরিচ্যুত কাশিয়ানী উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রাজপাট ইউনিয়নের শুক্তগ্রামের হিমায়িত খানের ছেলে আল-আমীন খান ও তার মামা খুলনা পিপলসের আওয়ামী.নেতা রাজপাট মধ্যোপাড়া গ্রামের মৃত. গেদা শেখের ছেলে ইব্রাহিম শেখ উপজেলার রাজপাট-শুক্তগ্রাম সেচ খালের জমি দখল করে শুক্তগ্রাম উত্তর পাড়া শুকুর মোল্লার বাড়ির দক্ষিণ পাশে সরকারি সেচ খালসহ প্রায় ৮ থেকে ৯ কাঠা জমিতে পুকুর খনন করছেন। এতে যেকোনো সময় কৃষি চাষাবাদের সেচ পানির সংকট ও ফসলের ক্ষতি এবং বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে কৃষি অনুপযোগী পতিত জমি তৈরি হতে পারে। সেচ খালে তীর হতে প্রায় ১৪’ফীট জায়গা সরকারি অধিগ্রহণকৃত। তারপরও তারা কোনো তোয়াক্কা না করে নিজেদের মতো করে পুকুর খনন করে যাচ্ছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, রাজপাট ইউনিয়নের রাজপাট-শুক্তগ্রাম সেচ খালের উত্তর-পূর্ব তীরে বাঁধ করে অবৈধ ভেকু মেশিন দিয়ে পুকুর খনন করছেন। সেখানকার একজন লোকের সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, শুক্র-শনি সরকারি ছুটি চলছে, তাই এই ফাঁকে কাজ শেরে নেয়া হচ্ছে। পরে জানতে পারি তিনি খুলনা পিপলসের আওয়ামী.নেতা ইব্রাহিম শেখার বড় ভাই ওহিদ শেখ। শেখান থেকে আর একটু সামনে দেখা হয় আল-আমীন খান ও ইব্রাহিম শেখের সঙ্গে। তারা বলেন, এটা কোনো সরকারি খাল নয়, আমাদের ক্রয়কৃত সম্পত্তি। এখনও সরকারি অধিগ্রহণ করে নাই। আপনারা ভুল তথ্যে এসেছেন।
এমন সময় চাকরিচ্যুত আল-আমীনের মামা ইব্রাহিম শেখ চড়াও হয়ে বলেন, আমাদের জমি আমরা কাটছি তাতে আপনাদের কী। যদি কিছু জানার থাকে দেখার থাকে তা হলে ডিসি’কে আসতে বলেন। আপনারা কোন সাহসে এখানে এসেছেন এবং কে আপনাদের ভুল তথ্য দিয়েছে নাম বলেন তাকে ধরে নিয়ে আসি। বাড়ি করার জন্য আমরা জমিটি খনন করছি। এটা আমাদের ক্রয়কৃত সম্পত্তি। তাই কোনো সমস্যা নাই।
এবিষয়ে গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সুব্রত কুমার বলেন, যেহেতু আজ প্রথম খবরটি পেলাম। সেখানে অফিসের লোক যাওয়া হবে এবং সরেজমিনে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: শাহীন মিয়া বলেন, মাঠে ফসলি/সমতল জমিতে পুকুর খনন করা পুরোপুরি বেআইনি। জেলা প্রশাসন থেকে অনুমতি নিয়েই কেবল নিজ জমি খনন করা যাবে। সরকারি খাল দখল করা বা কৃষি চাষাবাদে ক্ষতি হয় এমন কোন কাজ করা যাবেনা। লোক পাঠানো হবে। সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
