
উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকসের ব্যাংক ‘নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক’ থেকে অন্য মুদ্রায় ঋণ নেওয়ার সুবিধা পেতে জাতীয় সংসদে ‘নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বিল-২০২৩’ পাস হয়েছে। রিজার্ভে টান এবং ডলার বাজারের অস্থিরতার মধ্যে এই আইনটিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বুধবার (১ নভেম্বর) অর্থমন্ত্রীর পক্ষে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক জাতীয় সংসদে বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বিলটির ওপর দেওয়া জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর নিষ্পত্তি করেন।
মন্ত্রী বলেন, এই ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে পেইড ইন শেয়ারর্স ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং কলএ্যাবল শেয়ার ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বাংলাদেশের মোটা শেয়ারের পরিমাণ নয় হাজার ৪২০ এবং চাঁদার পরিমাণ ৯৪২.০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে পেইড ইন মূলধন হিসাবে বাংলাদেশের প্রদেয় পরিমাণ ১৮৮.৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ২০৮১ কোটি ৮২ লাখ টাকা), যা সাত কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য।

এই বিলটি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, পাঁচটি বিকাশমান অর্থনীতির জোট ব্রিকসের উদ্যোগে গঠিত নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এনডিবি) সদস্য হলে ডলার ছাড়াও অন্য মুদ্রায় ঋণ পাওয়া যাবে। তাই নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বিল, ২০২৩ জাতীয় সংসদে আনা হয়েছে।
ব্যাংকটি বাংলাদেশকে ঋণের সম্মতি দিয়েছে উল্লেখ তিনি বলেন, ‘এ ব্যাংকটি ব্রিকস গোষ্ঠী থেকে করা হচ্ছে। এটা হচ্ছে নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং এ ব্যাংকে যারা সদস্য হবেন তারা এ ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবেন। আমরা যেটা করছি এ ব্যাংক আইনটা করার সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে এরই মধ্যে আমাদের প্রস্তাব অনুযায়ী তারা আমাদের অর্থাৎ বাংলাদেশকে ঋণ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এ আইনটা করার পরই আমরা সেই চুক্তিতে সদস্য হবো এবং সদস্য হওয়ার পরই সেই ঋণটা নিতে পারব। এজন্যই এই আইনটা পাস করা অত্যন্ত জরুরি, সে জন্যই এ বিলটি আনা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক শুধু ডলারে ঋণ দেয়। আর এ ব্যাংক থেকে যে ঋণ দেওয়া হবে সেটা শুধু ডলারে ঋণ দেওয়া হবে না, এটা একটি শিথিলযোগ্য, স্টালিং পাউন্ড, ইউরো, ডলার, রুবল, ইউয়ান যে কোনো কারেন্সিতে ঋণ দিতে পারবে এ ব্যাংক। সেই জন্য আমার মনে হয় এটা অত্যাধুনিক একটা ব্যাংক হচ্ছে।
এই আইনটা অত্যন্ত প্রয়োজন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘নতুন যাত্রা করা ব্যাংকটির সাথে যাতে আমরা থাকতে পারি এবং বেনিফিটগুলো পাই এজন্য এই আইনটি একান্ত প্রয়োজন এবং বেনিফিট পাওয়ার রাস্তাটাও পরিষ্কার হয়ে গেছে।’
বিলটি পাসের প্রক্রিয়ায় আলোচনায় অংশ নেন বিরোধী দলের সদস্য মুজিবুল হক, কাজী ফিরোজ রশীদ, ফখরুল ইমাম, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, রওশন আরা মান্নান এবং স্বতন্ত্র সদস্য রেজাউল করিম বাবলু।
Design & Developed By: RTD IT ZONE