ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচারে হামলায় জাতিসংঘের ৯ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। ইউএন এজেন্সি ফর প্যালেস্টাইন রিফিউজিস (ইউএনআরডব্লিউএ) এর কমিউনিকেশন ডিরেক্টর জুলিয়েট তোমা বুধবার এমন তথ্য জানিয়েছেন।
সংবাদ সংস্থা এপিকে জুলিয়েট তোমা বলেন, গাজায় হামলা চালিয়ে তাদেরকে নিজ নিজ বাড়িতে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি জানান, ইসরায়েলের হামলায় গাজায় ১৮টি ইউএনআরডব্লিউএ স্কুল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। স্কুলগুলো অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হাজার হাজার ফিলিস্তিনির আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
তিনি এপিকে বলেন, ‘সংঘাতের সময় বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা সর্বাগ্রে। যুদ্ধের আইন অনুযায়ী তাদের রক্ষা করা উচিত।’
এর আগে মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চলমান যুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের উপর হামলার নিন্দা করেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ইসরায়েলি বিমান অভিযান ইউএনআরডব্লিউএ প্রাঙ্গনে আঘাত করেছে, ফলে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজার একমাত্র বিদ্যুৎকেন্দ্র। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে গাজার জরুরি ও সামান্য বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছিল। এখন গাজা পুরোপুরি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। এর ফলে সেখানে মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে প্যালেস্টাইন এনার্জি অথরিটির চেয়ারম্যান থাফার মেলহেম বুধবার ভয়েস অফ প্যালেস্টাইন রেডিওকে বলেন যে, গাজায় বিকেলে কারখানাটি বন্ধ হয়ে যাবে। বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর একটি গাজা। এখানে প্রায় ২৩ লাখ মানুষ বাস করে।
বুধবার গাজা কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতি বলে, বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হওয়ায় পুরোপুরি অন্ধকার হয়ে যাবে গাজাজুড়ে। এর ফলে মৌলিক পরিষেবা প্রদান চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে। জেনারেটর দিয়ে খুব বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে না।
গাজা কর্তৃপক্ষ বলেছে যে, ‘এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতি গাজা উপত্যকার সমস্ত বাসিন্দাদের জন্য একটি মানবিক সংকট তৈরি করেছে।’
গাজার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মাই আল-কাইলা বলেছেন যে, ‘গাজার হাসপাতালগুলোতে জেনারেটর চালানোর জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি নেই। যা আছে সেটি বৃহস্পতিবারের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। এর ফলে হাসপাতালের বিপর্যয়কর পরিস্থিতি আরও বাড়বে।’
গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের অতর্কিতে হামলার জবাবে সোমবার (৯ অক্টোবর) গাজা উপত্যকাকে সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ ঘোষণা করেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইওয়াভ গ্যালান্ট। এর ফলে গত ৩দিন ধরে বিদ্যুৎ, খাবার ও জ্বালানিসহ বেঁচে থাকার সকলপ্রকার উপকরণের সরবরাহ বন্ধ আছে গাজায়। সেই সাথে প্রতিনিয়ত বোমা বর্ষণের কারণে গাজাজুড়ে এখন মৃত্যু আর আর্তনাদ।
গাজায় ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত ৯৫০ জনের বেশি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৫ হাজার। অপরদিকে হামাসের হামলায় ইসরায়েলে নিহত হয়েছে ১২০০ এর বেশি মানুষ। আহতের সংখ্যা কয়েক হাজার।



















