
শরিফুল হাসান:
ফরিদপুরের সালথায় মাদকবিরোধী সমাবেশ ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মাঝারদিয়া বাজারে ছাত্র ও যুব সমাজের উদ্যোগে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবির উদ্দিন বলেন, এখানে উপস্থিত কেউ বলতে পারবে না যে মাদক ভালো জিনিস। জন্মলগ্ন থেকেই নেতিবাচক বিষয়ের প্রতি মানুষের এক ধরনের আকর্ষণ থাকে। কিন্তু মাদক সেই দুর্বলতাকেই কাজে লাগিয়ে একজন মানুষকে ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। মাদক সেবনের ফলে মস্তিষ্কের নিউরনের ক্ষতি হয়, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায় এবং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি একসময় পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। মাদকের অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে অনেকেই চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, পারিবারিক সহিংসতাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। ফলে একটি পরিবার যেমন ভেঙে যায়, তেমনি সমাজেও অস্থিরতা ও অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে শুধু প্রশাসনের অভিযান যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, যুবসমাজ এবং সচেতন নাগরিক সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আমরা মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে বদ্ধপরিকর। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও পুরো সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। মাদক নির্মূলে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে শুধুমাত্র পুলিশের পক্ষে এ সমস্যা পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। অভিভাবকদের সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধু নির্বাচন ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের প্রতি নজর রাখতে হবে। কোনো এলাকায় মাদক কারবার বা সেবনের তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মাদকমুক্ত সালথা গড়ে তুলতে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
মাঝারদিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. সাহিদুজ্জামান সাহিদের সভাপতিত্বে ও উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহেল মাতুব্বরের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সালথা উপজেলা নির্বাহী অফিসার দবির উদ্দিন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. বাবলুর রহমান খান।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান হাবিব, সাবেক প্রধান শিক্ষক রবিউল আলম, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল ইসলাম রাজ, কাজী কামরুল, সেলিম মাতুব্বর,উত্তরা পশ্চিম থানা ছাত্র দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বপন গোল্ডেন প্রমূখ।