
গোপালগঞ্জ সংবাদদাতা।।
সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে প্রাইভেট পড়ানো ও কোচিং করানোয় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার সাজাইল ইউনিয়নে ১১৫ নং মাজড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র যেন ভিন্ন। বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম চলাকালীন সময়ের মধ্যেই চলছে প্রাইভেট-কোচিং ক্লাস বানিজ্য।
অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুলে প্রাইভেট বানিজ্যের কারণে তাদের সন্তানরা লেখাপড়ায় মনোযোগী হচ্ছে না। তারা প্রাইভেট ওপর মনোযোগী ও নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এতে কোমলমতি ছেলে-মেয়েদের ক্ষতি হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, ১১৫ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জুলিয়া সুলতানা বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে সকাল ১০ টা ৪০ মিনিটের সময় স্কুলের স্টোর রুমে ৫’ম শ্রেণির ১০ থেকে ১২ জন ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাইভেট পড়াচ্ছেন। এ সময় স্কুলে অন্যান্য শ্রেণির ক্লাস চলাকালীন স্টোর রুমে ৫’ম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাইভেট পড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারননি। খোঁজ নিয়ে জান গেছ, জুলিয়া সুলতানা বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি কাশিয়ানী উপজেলা শাখার সভাপতি ও ১১ নং সাজাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জিয়াউর রহমান জিহাদের সহধর্মিণী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ অবিভাবক বলেন, প্রাইভেট পড়ার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের বাধ্য করেন জুলিয়া সুলতানা মেডাম। অন্যথায় পরিক্ষার খাতায় নাম্বার কম দেওয়ার ভয় দেখায়। তাই বাধ্য হয়ে ছেলে-মেয়েদের জুলিয়া সুলতানা মেডামের কাছে পড়াতে হয়। ওনার কাছে যারা প্রাইভেট পড়ে তাদের পরিক্ষার হলে উত্তর বলে দেয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জুলিয়া সুলতানা ম্যাম জানান, সরকার কী নিয়ম করেছে তা আমি জানি। এখানে স্টোর রুমে প্রাইভেট পড়ানো হচ্ছে না কোচিং বা অতিরিক্ত ক্লাস করানো হচ্ছে। স্টোর রুমে কোচিং বা অতিরিক্ত ক্লাসের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক জানেন কী না চানতে চাই বলেন ‘হ্যা’ প্রধান শিক্ষক জানেন। তবে ১১৫ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণা রক্ষিত বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো বিষয়ে না বুঝে থাকলে দেখিয়ে দেওয়া বা দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য এক্সট্রা ক্লাসের কথা বলা হয়েছে। তবে সেই এক্সট্রা ক্লাস শ্রেণির কক্ষে হওয়ার কথা। স্টোর রুমে না। আর স্টোর রুমে যে প্রাইভেট বা এক্সট্রা ক্লাস করানো হয় তা আমার জানা ছিলোনা। আর আমার স্কুলে কোনো প্রাইভেট পড়ানো চলবে না। আমারদের স্কুলের স্টোর রুমে যে প্রাইভেট পড়ানো হয় তা আজই জানতে পারলাম। বিষয়টি আমি দেখতেছি।
কাশিয়ানী উপজেলা সহকারী শিক্ষকা কর্মকর্তা (এটিও) শুভব্রত বিশ্বাস বলেন, সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে কোনো ধরনের প্রাইভেট ও কোচিং ক্লাস করানো জাবে না। আর বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম চলাকালীন সময়েতো প্রশ্নই আসেনা। তবে দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত দেখিয়ে দিতে পারে তাও বিনা অর্থে। বিষয়টি জানা ছিলোনা। অভিযোগ বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পেলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পক্ষকে জানানো হবে।