
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য মাদারীপুরের তিনটি আসনে মোট ২৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ২২ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম বিভিন্ন কারণে ৫ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেছেন। এই ঘোষণাটি বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার পর্যায়ক্রমে দেওয়া হয়। শনিবার ছিল মাদারীপুর-৩ আসনের যাচাই-বাছাই ও জেলার শেষদিন।
মাদারীপুর-৩ (কালকিনি-ডাসার-সদরের একাংশ) আসনের প্রার্থীদের যাচাই বাছাই শেষে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এর মনোনীতসহ দুইজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। একই সাথে ৪টি দল থেকে মনোনীত ৪ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠান শেষে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে মাদারীপুর-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মোট ৬ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এর মনোনীত প্রার্থী আমিনুর ইসলামের মনোনয়নপত্র ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় তাকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন মো. আসাদুজ্জামান। কিন্তু আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ১ শতাংশ ভোটার সমর্থনের ঘাটতি থাকায় তার মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়। এসময় যাচাই-বাছাই শেষে মাদারীপুর-৩ আসনে মোট ৪ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
বৈধতা পাওয়া প্রার্থীরা হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আনিসুর রহমান তালুকদার (খোকন), জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর হাতপাখা প্রতীকের মো. আজিজুল হক ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) একতারা প্রতীকের প্রার্থী নিতাই চক্রবর্তী।
রিটার্নিং কর্মকর্তা আরও জানান, বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা ও ডাসার উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন এবং মাদারীপুর সদর উপজেলার ৫ ইউনিয়ন নিয়ে মাদারীপুর-৩ আসন গঠিত। মোট ভোটার ৩ লাখ ৮২ হাজার ৯৬৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৯ হাজার ৭৩০ জন। নারী ভোটার আছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ২৩৩ জন। এছাড়া ২ জন রয়েছে তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার। কুমার, আড়িয়াল খাঁ নদ বিশিষ্ট এই আসনে মোট ভোট কেন্দ্র ১৩৪টি। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৩৭টি ও কালকিনি উপজেলায় ৭২ ও ডাসার উপজেলায় ভোটকেন্দ্র রয়েছে ২৫টি।
উল্লেখ্য, গত (১ জানুয়ারি) বৃহস্পতিবার মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের ১১ জনের মধ্যে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমরান হাসানকে বাতিল করা হয় এবং অপর ১০ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) মাদারীপুর-২ আসনের ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বক্তা ও টেকেরহাটের পীরজাদা ড. মুহাম্মদ কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী এবং অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রেয়াজুল ইসলামের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়।
বাকি ৮ জনকে বৈধ ঘোষণা করলেও কিছু কাগজ ও লেখায় গড়মিল থাকার কারণে ৪ জনের মনোনয়নপত্রের ফলাফল স্থগিত রাখেন রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম। তারা হলেন, মাদারীপুর-২ আসনের জাতীয় পার্টির মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মো. মহিদুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মনোনীত হাতপাখার প্রার্থী আলী আহম্মদ চৌধুরী, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) মনোনীত কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ দিদার হোসেন এবং বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী (কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য) মিল্টন বৈদ্য। তাদের ৪ জনকে ৩ জানুয়ারির মধ্যে সঠিক তথ্য ও শর্ত অনুযায়ী কাগজ জমা দিতে বলা হয়েছিল।
এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম।
