
দীর্ঘদিন ধরে পর্দায় অনিয়মিত ছোট ও বড় পর্দার অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি। প্রায় দুবছর আড়ালে থাকার পর ফেসবুক লাইভে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন এ অভিনেত্রী।
সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় করা ওই লাইভে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপ, অনলাইন হয়রানি এবং কাজের সংকটে তিনি ভীষণভাবে বিপর্যস্ত। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আমি আর পারছি না।’
তার দাবি, কেউ তাকে অভিনয়ের জন্য ডাকছে না। বিভিন্ন জায়গায় তাকে ‘ব্ল্যাক লিস্টেড’ করে রাখা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমেও নানা বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন।
তিনি দাবি করেছেন, মানসিকভাবে ভীষণ বিপর্যস্ত, কাজ পাচ্ছেন না, নানা মহল থেকে পরিকল্পিতভাবে তাকে একঘরে করে রাখা হচ্ছে। এমনকি আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, ‘এই বাংলাদেশে জন্ম নিয়েই ভুল করেছি।’
সোমবার সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভে এসে জ্যোতিকা বলেন, তিনি নিজেকে ‘হেল্পলেস’ অনুভব করছেন। তার ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে তাকে নিয়ে ট্রল, কটূক্তি ও ব্যক্তিগত আক্রমণ চলছে। শুধু সামাজিক মাধ্যমেই নয়, পেশাগত জীবনেও তিনি নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।
জ্যোতিকা জ্যোতির দাবি, একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী তাকে পরিকল্পিতভাবে কাজ থেকে দূরে রাখছে। তবে সেই গোষ্ঠীর নাম তিনি প্রকাশ করেননি। বিভিন্ন গ্রুপিংয়ের কারণে নতুন কোনো কাজ পাচ্ছেন না বলেও জানান। ফলে একপ্রকার ঘরবন্দী জীবন কাটাতে হচ্ছে তাকে। তিনি বর্তমান সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘এর একটা শেষ করেন, প্লিজ।’
জ্যোতি জানান, নিজের কক্ষ থেকে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র গুছিয়ে বের হওয়ার সময় তিনি বাইরে থাকা লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন কিন্তু কেউ তার সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। সে অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘যে মুখগুলো আগে পরিচিত ছিল, সেগুলো সেদিন খুব অপরিচিত লাগছিল।’ কথাগুলো বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন অভিনেত্রী।
ফেসবুক লাইভে জ্যোতিকা জ্যোতি দাবি করেছেন, দুই বছর ধরে তার হাতে তেমন কোনো কাজ নেই। এ সময়ে তাকে নিয়মিত অনলাইনে হয়রানি, কটূক্তি ও ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে। আর্থিক সংকটের কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক সময় বাবা-মায়ের কাছ থেকে সাহায্য নিতে হচ্ছে, যা তাকে আরও মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে।
জ্যোতিকা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের পর থেকে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার ও হয়রানি বেড়ে যায়। তার মতে, নিজের রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থানের কারণে একাধিক পক্ষের সমালোচনা, হুমকি এবং অনলাইন বুলিংয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। দীর্ঘ সময় নিরাপত্তার কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেননি। বিভিন্ন সময় তাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয়েছে, যা তার জন্য অত্যন্ত কষ্টের।
জ্যোতিকা জানান, এসব ঘটনার প্রভাব পড়েছে তার পেশাগত জীবনেও। তার দাবি, অনেকেই তাকে নিয়ে কাজ করতে ভয় পান। এই ভয় পাওয়ার কথা তাকে জানিয়েছেনও। ফলে অভিনয়জীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি কারও কাছে গিয়ে কাজ চাইতে পারি না। আপস করেও কাজ করতে পারি না। আমার জীবনটা নরকের মতো হয়ে গেছে।’
লাইভে বর্তমান সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়ে জ্যোতিকা জ্যোতি জানালেন, বর্তমান পরিস্থিতির অবসান চান। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের কারণে শারীরিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানান।
ফেসবুক লাইভের একেবারে শেষ দিকে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জ্যোতিকা জ্যোতি বলেন, ‘আমি হেল্পলেস। আমি দুঃখিত, এভাবে আমার দুর্বলতা প্রকাশ করতে হলো। কিন্তু আমার আর শক্তি নেই। আমার মনে হচ্ছে, আমি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারব না।’