
ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, তেল শোধানাগারসহ জ্বালানি-সম্পর্কিত লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের যৌথ হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল পুনরায় ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ফিরবে এবং দুই-এক দিনে মধ্যেই এই হামলা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের প্রধান তেল শোধনাগার এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো এই হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু করা হবে। এছাড়াও রাজধানী তেহরানকে পুরোপুরি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা নিয়েও উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে।
সূত্রমতে, অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কায় আগামী সোমবার (৩ আগস্ট) বিশ্ববাজার খোলার আগেই যেকোনো অভিযান শেষ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল, যদিও কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। ইসরায়েলকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয় করছে, কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি।
এদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার লক্ষ্যে ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালানোর জন্য সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক অগ্রগতি হলে হামলা বন্ধ করে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ফিরতে পারেন তিনি।
তবে শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে ভাষণ দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের ওপর খুব কঠিন আঘাত হানব। এক পর্যায়ে তারা বলবে, ‘আমরা আর এটা সহ্য করতে পারছি না’।”
এদিকে ইসরায়েলে পক্ষ থেকে নতুন করে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার কোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে ইসরায়েল অবগত নয় এবং ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় যোগ দেওয়ার জন্য তাদের অনুরোধ করা হয়নি।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হওয়া মূল অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একসাথেই ইরানের সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছিল। পরবর্তীতে গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েল ইরানের মূল ভূখণ্ডে বড় ধরনের বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র অভিযান চালানো সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল।
এদিকে ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সম্ভাব্য হামলার পাল্টা জবাব দিতে তেহরান একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে।
ওই কর্মকর্তা তাসনিমকে বলেন, ‘আমরা একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছি, যার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন জ্বালানি অবকাঠামো ও ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং আমরা তা বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত।’
তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পাল্টা জবাব দেওয়ার মতো যথেষ্ঠ ‘সামর্থ্য ও সদিচ্ছা’ ইরানের রয়েছে।
ভূ-রাজনীতি এবং সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হামলার পরিকল্পনা এই অঞ্চলের যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাকে পুরোপুরি নস্যাৎ করে দেবে। জ্বালানি কেন্দ্রে আঘাত করা হলে ইরান পুরো মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এবং সৌদি আরব বা আরব আমিরাতের মতো মিত্র দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানাবে, যা একটি ‘সর্বাত্মক আঞ্চলিক মহাযুদ্ধে’ রূপ নিতে পারে।
বিশ্লেষকদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো তেলের দাম। চলমান সংঘাতের কারণে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ইতোমধ্যে ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারে কাছাকাছি পৌঁছেছে। সংঘাত আরও ছড়ালে বাজার আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স, আনাদোলু