1. jmitsolution24@gmail.com : News Desk : News Desk
  2. livenewsbd24@gmail.com : livenews24bd : Mehedi Hasan
  3. news.livenews24bd@gmail.com : LN24BD DESK : LN24BD DESK
মসজিদ থেকে ফুটবল মাঠ: আর্জেন্টিনার মুসলিম সমাজের অন্যরকম গল্প - Livenews24bd সত্যের সাথে প্রতিদিন
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন

মসজিদ থেকে ফুটবল মাঠ: আর্জেন্টিনার মুসলিম সমাজের অন্যরকম গল্প

ধর্ম ডেস্ক।।
  • প্রকাশিত : সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬
  • ২৫ শেয়ার এবং সংবাদটি পড়েছেন।

আর্জেন্টিনার নাম উচ্চারিত হলেই চোখে ভেসে ওঠে নীল-সাদা জার্সি, লিওনেল মেসির জাদুকরী ফুটবল এবং বিশ্বকাপের উন্মাদনা। ফুটবল দেশটির জাতীয় পরিচয়ের অন্যতম শক্তিশালী প্রতীক। তবে ফুটবলের এই উন্মাদনার পাশাপাশি আর্জেন্টিনায় গড়ে উঠেছে বৈচিত্র্যময় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবন, যার গুরুত্বপূর্ণ অংশ মুসলিম সমাজ।
ধর্মীয় মূল্যবোধ, মসজিদভিত্তিক কমিউনিটি জীবন এবং জাতীয় ফুটবল সংস্কৃতি- এই তিনটি বাস্তবতা দেশটির অনেক মুসলিম পরিবারের জীবনে পাশাপাশি অবস্থান করছে। ফলে ধর্মীয় পরিচয় অটুট রেখেও বৃহত্তর জাতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার একটি বাস্তব চিত্র দেখা যায় আর্জেন্টিনার মুসলিম সমাজে।

অভিবাসনের ইতিহাস ও মুসলিম জনসংখ্যা

আর্জেন্টিনায় ইসলাম ধর্মের বিস্তার মূলত উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে। সে সময় সিরিয়া, লেবানন ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চল থেকে বহু অভিবাসী দেশটিতে বসতি স্থাপন করেন। অটোমান সাম্রাজ্যের পাসপোর্টে আসার কারণে স্থানীয়ভাবে তাঁদের অনেকে ‘তুর্কো’ নামেও পরিচিতি পান। তাঁদের হাত ধরেই আর্জেন্টিনায় মুসলিম কমিউনিটির বিকাশ ঘটে।

দেশটির জাতীয় আদমশুমারিতে ধর্মভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করা হয় না। ফলে মুসলিম জনসংখ্যার নির্দিষ্ট সরকারি পরিসংখ্যান নেই। তবে পিউ রিসার্চ সেন্টার, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম রিপোর্ট’ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক গবেষণায় আর্জেন্টিনায় মুসলিম জনসংখ্যা কয়েক লাখ থেকে প্রায় ১০ লাখ পর্যন্ত হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ মুসলিম জনগোষ্ঠীর আবাস আর্জেন্টিনা। রাজধানী বুয়েনস আইরেস ও এর আশপাশের এলাকাতেই তাঁদের বড় অংশের বসবাস।

কিং ফাহাদ ইসলামিক কালচারাল সেন্টার: কমিউনিটির কেন্দ্র

বুয়েনস আইরেসের পালের্মো এলাকায় অবস্থিত কিং ফাহাদ ইসলামিক কালচারাল সেন্টার আর্জেন্টিনার মুসলিম সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। ২০০০ সালে উদ্বোধন হওয়া এই কমপ্লেক্স লাতিন আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ ইসলামিক সেন্টার হিসেবে পরিচিত।

king-fahad-cultural-centre-argentina
কিং ফাহাদ ইসলামিক কালচারাল সেন্টার, বুয়েনস আইরেস। ২০০০ সালে উদ্বোধন হওয়া এটি লাতিন আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ ইসলামিক সেন্টার।

মসজিদের পাশাপাশি এখানে রয়েছে গ্রন্থাগার, আরবি ভাষা শিক্ষা, ইসলামিক স্টাডিজ, স্কুল এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি এখানে ভাষা শিক্ষা ও কমিউনিটিভিত্তিক নানা আয়োজন পরিচালিত হয়। পাশাপাশি আর্জেন্টিনায় বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন, শিক্ষা ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানও সক্রিয়ভাবে ধর্মীয়, সামাজিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

ফুটবল: জাতীয় সংস্কৃতির অভিন্ন অংশ

আর্জেন্টিনায় ফুটবল মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। স্থানীয় ক্লাব, স্কুল কিংবা পাড়ার মাঠে বছরের প্রায় সব সময়ই ফুটবল খেলা চলে। শিশু-কিশোরদের বড় হওয়ার গল্পেও ফুটবল একটি পরিচিত অনুষঙ্গ।

মুসলিম পরিবারের শিশুরাও এর ব্যতিক্রম নয়। ধর্মীয় শিক্ষা শেষে অনেকে স্থানীয় ক্লাব বা পাড়ার মাঠে খেলতে যায়। বিশ্বকাপ এলে সেই উৎসবের আমেজ আরও বেড়ে যায়। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে বসে জাতীয় দলের খেলা দেখা, ম্যাচ নিয়ে আলোচনা কিংবা জয় উদযাপন তাদের কাছেও পরিচিত অভিজ্ঞতা।

argentina-muslims-child

গবেষকদের পর্যবেক্ষণ বলছে, আর্জেন্টিনায় ফুটবল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মীয় ও অভিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষকে একই সাংস্কৃতিক পরিসরে নিয়ে এসেছে। মুসলিম সমাজও সেই বৃহত্তর বাস্তবতারই অংশ।

অনুপ্রেরণার নাম লিওনেল মেসি

আর্জেন্টিনার নতুন প্রজন্মের কাছে লিওনেল মেসি একজন কিংবদন্তি ফুটবলার। মুসলিম পরিবারের অনেক শিশুও তাঁর খেলা দেখে বড় হচ্ছে। মাঠে তাঁর ধৈর্য, দলকে এগিয়ে নেওয়ার মানসিকতা এবং বছরের পর বছর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাদের আকৃষ্ট করে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের মেসির পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও আত্মনিবেদনের গল্প শোনান। তাই মুসলিম শিশু-কিশোরদের কাছেও মেসি অনুপ্রেরণার একটি পরিচিত নাম। তাঁর ক্যারিয়ার নতুন প্রজন্মকে নিয়মিত অনুশীলন, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও কঠোর পরিশ্রমের গুরুত্ব মনে করিয়ে দেয়।

ধর্মীয় পরিচয় ও জাতীয় পরিচয়ের সহাবস্থান

image

আর্জেন্টিনার মুসলিম সমাজের অভিজ্ঞতা বলছে, ধর্মীয় পরিচয় ও জাতীয় পরিচয় একসঙ্গেই এগিয়ে চলতে পারে। মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারে ধর্মীয় শিক্ষা ও মূল্যবোধের চর্চার পাশাপাশি জাতীয় ফুটবল দলকে সমর্থন জানানো অনেক পরিবারের কাছে স্বাভাবিক জীবনের অংশ। বিশ্বকাপ এলে সেই আবেগ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে বসে খেলা দেখা, জয় উদযাপন করা কিংবা ম্যাচ নিয়ে আলোচনা করাও তাদের সামাজিক জীবনের পরিচিত চিত্র।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা হয়েছে। তবে আর্জেন্টিনার মুসলিম সমাজে ফুটবলের প্রতি আগ্রহে তার বড় কোনো প্রভাব দেখা যায় না। ফুটবল এখনো সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক যোগাযোগ এবং জাতীয় পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।

মসজিদের শিক্ষা আর ফুটবল মাঠের স্বপ্ন আর্জেন্টিনার বহুসাংস্কৃতিক সমাজের একটি বাস্তব ছবি তুলে ধরে। ধর্মীয় বিশ্বাস ধরে রেখেই দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত রাখছেন অনেক মুসলিম পরিবার। ফুটবল সেই যোগসূত্রকে আরও দৃঢ় করেছে।

আপনার পছন্দের লিংকের মাধ্যমে সংবাদটি শেয়ার করুন, আমাদের সাথেই থাকুন

আরও সংবাদ দেখুন