
নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে সোমবার এক উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ের লড়াইয়ে ১-০ গোলে হারিয়ে ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্পেন। একপেশে ফাইনালে আর্জেন্টিনার স্বপ্ন ভেঙে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট মাথায় পরেছে ‘লা রোহা’রা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনাকে কোণঠাসা করে রেখেছিল স্প্যানিশরা, যা বজায় ছিল শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত। বল দখল থেকেশুরু করে আক্রমণ খেলার প্রতিটি মিনিটেই ছিল স্পেনের একচ্ছত্র আধিপত্য। শেষ পর্যন্ত মেসি বাহিনীকে স্তব্ধ করে দিয়ে বিশ্ব ফুটবলেরনতুন রাজা এখন স্পেন।
ম্যাচে স্পেনের নিখুঁত ও পরিকল্পিত ফুটবলের সামনে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ ছিল একেবারেই ধারহীন ও নিষ্প্রভ। পুরো ম্যাচে প্রায়৬৬% সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে আর্জেন্টিনার গোলপোস্ট লক্ষ্য করে ২০টি শট নেয় স্প্যানিশরা।
বিপরীতে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা বল দখলে রাখতে পেরেছিল মাত্র ৩৪% সময়। ম্যাচের পুরো ৯০ মিনিটে স্পেনের গোলপোস্টে মাত্র ২টি শটনিতে পেরেছে আর্জেন্টিনা, যা বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্বল আক্রমণাত্মক পারফরম্যান্স। আর এই চরম হতাশারঅনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়েই ভাঙলো আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন।
পর্দা নামা এই ফুটবল মহোৎসবের পুরো টুর্নামেন্টের পরিসংখ্যান ও পুরস্কারের তালিকা একনজরে দেখে নেওয়া যাক:
মূল দলগত ফলাফল
চ্যাম্পিয়ন: স্পেন (দ্বিতীয়বার)
রানার্স-আপ: আর্জেন্টিনা
তৃতীয় স্থান: ইংল্যান্ড
ব্যক্তিগত পুরস্কার ও পারফরম্যান্স
গোল্ডেন বল (সেরা খেলোয়াড়): রদ্রিগো (স্পেন)
গোল্ডেন বুট (সর্বোচ্চ গোলদাতা): কিলিয়ান এমবাপে (ফ্রান্স)
গোল্ডেন গ্লাভস (সেরা গোলকিপার): উনাই সিমন (স্পেন)
টুর্নামেন্টের সেরা তরুণ খেলোয়াড়: পাউ কুবারসি (স্পেন)
ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় (প্লেয়ার অব দ্য ফাইনাল): ফেররান তরেস (স্পেন)
টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান
সর্বমোট গোল সংখ্যা: ৩০৮টি
ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ গোল: কিলিয়ান এমবাপে (১০টি গোল)
সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট: মাইকেল অলিসে (৭টি অ্যাসিস্ট)
সবচেয়ে বেশি ক্লিন শিট: উনাই সিমন (৭টি ম্যাচ)
সবচেয়ে বেশি সেভ: অরল্যান্ডো গিল (প্যারাগুয়ে)- ২৮টি সেভ
মোট হ্যাটট্রিক: ৪টি (লিওনেল মেসি, জোনাথন ডেভিড, উসমান দেম্বেলে এবং বুকায়ো সাকা)
একটি দেশের পক্ষে সর্বোচ্চ গোল: ইংল্যান্ড (২০টি গোল)
সবচেয়ে কম গোল হজম করা দেশ: স্পেন (মাত্র ১টি গোল)
গোল করা মোট দেশের সংখ্যা: ৪৭টি দেশ
লাল কার্ড (রেড কার্ড): ১৫টি