
নওগাঁ সংবাদদাতা:
নওগাঁ সদর মডেল থানায় সাংবাদিক রুহুল আমিনকে জড়িয়ে ফেসবুকে মানহানিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগকারী সিনিয়র সাংবাদিক মো. রুহুল আমিন (৩৫) নওগাঁ জেলার আরজী নওগাঁ লাটাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ বুলেটিন, যায়যায়দিন ও ইংরেজি বিজনেস টাইমস্ পত্রিকার সাংবাদিক হিসেবে নওগাঁ জেলায় কর্মরত আছেন। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ছেলে সন্তান বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তিনি তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডিতে প্রবেশ করে দেখতে পান,Abul Kalam Azad নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে তাকে উদ্দেশ্য করে একটি সুপার এডিট ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। পোস্টটিতে লেখা ছিল-সংবাদিক রুহল আমিন এর হিরোইন সেবন কি করে সে সাংবাদিক হয়-যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের এর পর আবুল কালাম আজাদ কৌশলে তার ফেইসবুক আইডি থেকে সেই ভিডিও ডিলিট করে নেয়।
অভিযুক্ত মো. আবুল কালাম আজাদ নওগাঁ সদর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়ন এর গোয়ালী গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা। অভিযোগে তাকে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অর্থের যোগানদাতা হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক দাবি করেন, উক্ত সুপার এডিট ভিডিও ও লেখার মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে তিনি মানসিকভাবে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তার পরিবার ও পেশাগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিযোগকারী।
ইউনাইটেড প্রেসক্লাব নওগাঁর সভাপতি সাব্বির আহম্মেদ বলেন, আবুল কালাম আজাদ যে, সাংবাদিক রুহুল আমিনকে নিয়ে তার ব্যক্তিগত ফেইসবুক আইডি থেকে একটি সুপার এডিট করা একটি ভিডিও ছেড়েছে তা তিনি খুবই অন্যায় করেছে। এতে করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুক্তভোগী সাংবাদিকের মান ক্ষুন্ন হয়েছে। আমরা আইনের দারস্থ হয়েছি আইন যা ভালো মনে করেন তাই আমরা মাথা পেতে নিবো। আর আমরা যদি আইনগত সহায়তা না পেয়ে থাকি তাহলে আমরা কঠোর থেকে কঠোরতম সিদ্ধান্তে যাবো। এবং প্রয়োজনে নওগাঁ জেলাসহ সারাদেশ জুড়ে মানববন্ধন করবো।
একজন পেশাদার সাংবাদিককে পরিকল্পিতভাবে মাদকসেবনের মতো গুরুতর ও সামাজিকভাবে ঘৃণিত অভিযোগে জড়িয়ে অপ-প্রচার চালানো শুধু ব্যক্তিগত মানহানি নয়, এটি সাংবাদিক সমাজের ওপর সরাসরি আঘাত। অভিযুক্ত ব্যক্তি স্থানীয় প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হয়েও এ ধরনের ন্যক্কারজনক কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।
তিনি আরও বলেন, ইউনাইটেড প্রেসক্লাব কোনোভাবেই অপ-সাংবাদিকতা, অপ-প্রচার কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরিত্রহননের নীতিকে প্রশ্রয় দেয় না। আমরা চাই, প্রশাসন দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
অভিযুক্ত আবুল কালাম আজাদ বলেন, তুই কতো টাকা খাবু বল। তোর আব্বাদের কাছে জিজ্ঞেস কর আমি কিভাবে ইট ভাটার সাথে লাগানো কোল্ড ষ্টোর নির্মান করছি। তিনি আরও বলেন, আমি কোন ভিডিও ছাড়িনি আমার উপর মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি ফোন কেটে দেয়।
এ বিষয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.নিয়ামুল হক বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে সেই ভিডিও তদন্তের মাধ্যমে ফরেনসিক এ পাঠানো হবে। তিনি একজন সাংবাদিক এবং শারীরিক ডান চোখে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এটা খুবই অমানবিক কাজ হয়েছে।
