
মাদারীপুর প্রতিনিধি:
শরীয়তপুরের ডামুড্যা থানাধীন ডামুড্যা এলাকায় সংঘটিত আলোচিত দস্যুতা ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তসহ তিনজনকে কিশোরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৮ মাদারীপুর ক্যাম্পের একটি দল। রোববার (৪ জানুয়ারি) গভীর রাতে র্যাব-৮ বরিশাল ও র্যাব-১৪ কিশোরগঞ্জের যৌথ অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
রোববার সন্ধ্যায় মাদারীপুর র্যাব ক্যাম্পে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-৮ এর অধিনায়ক কমান্ডার শাহাদাত হোসেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর এলাকার বাবুল খানের ছেলে সোহাগ খান (২৭) ও সামছুদ্দিন মোল্যার ছেলে রাব্বি মোল্যা (২১) ও শহীদ সরদারের ছেলে পলাশ সরদার (২৫)। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বাটন মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
প্রেস ব্রিফিং এ র্যাব-৮ এর অধিনায়ক কমান্ডার শাহাদাত হোসেন জানান, নিহত খোকন চন্দ্র দাস (৪৫) পেশায় একজন পল্লি চিকিৎসক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ডামুড্যা থানার কেউরভাঙ্গা এলাকায় একটি ওষুধের ফার্মেসি ও মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/নগদ/রকেট) ব্যবসা পরিচালনা করতেন।
গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে নগদ ছয় লাখ টাকা নিয়ে সিএনজি যোগে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। বাড়ির কাছাকাছি বিনয় বেপারীবাড়ী মসজিদের সামনে পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা তিনজন তার পথ রোধ করে।
একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্রের মুখে ভয় দেখিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। ভিকটিম তাদের চিনে ফেলায় তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে এবং হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রাণ বাঁচাতে খোকন চন্দ্র দাস পাশের ডোবায় ঝাঁপ দেন। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩ জানুয়ারি ২০২৬ ভোরে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় ডামুড্যা থানায় হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে র্যাব বিশেষ তদন্ত শুরু করে এবং প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর র্যাব- ৮ এর কোম্পানি কমান্ডার (পুলিশ সুপার) মীর মনির হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিক রহমান।
