
গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ও উচ্চ আদালতের কড়া নির্দেশনার পরও থামছে না অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। কোনো ধরনের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার উজানি ইউনিয়নের বরমপাল্টা গ্রামের কৃষি জমি, পুকুর, খাস জমি এবং সরকারি খালে পাশে থেকে শ্যালো মেশিন (রুপান্তরিত) বোমা মেশিনের সাহায্যে বালু উত্তোলন করছে একটি প্রভাবশালী মহল। যার ফলে ঝুঁকিতে রাস্তা, বসতভিটা ও অন্যান্য ফসিল জমি। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ থাকলেও স্থাপনার আশ-পাশেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
মুকসুদপুর উপজেলার বরমপাল্টা গ্রামে প্রভাবশালী কুচক্রী মহল সরকারি নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে অবৈধভাবে সরকারি খাস জমি, পুকুর ও খালের পাশ থেকে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চালাচ্ছে। প্রশাসনকে জানালে মিলে দায়সারা উত্তর আসতেছি, দেখতেছি, দেখবো অথবা ভূমি কর্মকর্তাকে পাঠাচ্ছি। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসনের নিরবতা ও হেয়ালিতে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। তারা বলছেন, প্রশাসনের নিকট একাধিক অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার মিলছে না।
সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ডিজেল ইঞ্জিনকে বোমা মেশিনে রূপান্তরিত করার ফলে বিকট শব্দে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বিরক্ত হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী এবং অসুস্থ মানুষজন।
সরেজমিনে দেখাগেছে, মঙ্গলবার (৯’ডিসেম্বর) উপজেলার উজানি ইউনিয়নের পশ্চিম বরমপাল্টা গ্রামের জটা গোসাই এর বাড়ির পূর্ব পাশে দুটি এবং পশ্চিম পাশে খাল পাড়ে ভবো মন্ডলের পুকুর থেকে বোমা মেশিন বসিয়ে অবাদে চলছে বালু উত্তোলনের মহোৎসব।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, এভাবে পুকুর ও খালের পাশ থেকে বালু উত্তোলন করলে আমাদের আবাদি জমি নষ্ট হয়ে যাবে। এছাড়াও মেশিনের উচ্চমাত্রার শব্দে আমার বাচ্চার ঘুমে ব্যাঘাত ঘটছে। রাহুথড় থেকে বরমপাল্টা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাস্তা ভরাটের কাথা বলে বালু উত্তোলন করা হলেও তা না করে পাশের পরিত্যক্ত পুকুর, নিচু জমি সবজি চাষের জন্য উচুকরনসহ আশপাশের বাড়ি ঘরেও দেওয়া হচ্ছে বালু।
নিষিদ্ধ বোমা মেশিনের মালিক দেবাশীষকে জিজ্ঞেস করলে বলেন, এটা সরকারি রাস্তা নির্মাণ কাজে ব্যবহার হচ্ছে। মেশিন চালানোর অনুমতি রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমি ওই কাজের টিকাদার নই। দীর্ঘদিন চলাচলের রাস্তা ভেকু দিয়ে গর্ত করে রাখায় চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে ক’এক শতাধিক বাড়ির মানুষ। বালু দিয়ে রাস্তার বেড ভরাট করলে জনসাধারণ উপকৃত হবে। সেই কারণে বোমা মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
পরে বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন প্রজ্ঞাপনের কথা বললে তিনি বলেন, ওখানে গিয়ে আপনারা যদি এসব কথা বলেন। তাহলে আমার কিছু বলার নাই। কাজটা জন সার্থের।
উল্লেখ্য, গত ২০০৯ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বোমা মেশিন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেন উচ্চ আদালত। এছাড়াও বালু মহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ সালের নীতিমালা অনুযায়ী পাম্প বা অন্য কোন মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থল বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। ওই আইনের (৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লেখ রয়েছে ড্রেজিং কার্যক্রম বল্কহেড বা প্রচলিত বলগেট ড্রেজার ব্যবহার করা যাবে না। এবং সর্বোপরি এভাবে বালু উত্তোলন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ বলে বিবেচ্য হবে।
মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ আবুল হাছনাত বলেন, ড্রেজার মেশিন বা বোমা মেশিনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন দণ্ডনীয় অপরাধ। অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে যদি কেউ বালু উত্তোলন করে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
