
ইউরোপের প্রযুক্তি সমৃদ্ধ দেশ নেদারল্যান্ডসে প্রতি বছর প্রায় ৪০ হাজার দক্ষ প্রযুক্তি কর্মীর চাহিদা রয়েছে। এই চাহিদা পূরণে বাংলাদেশের মানবসম্পদ ও প্রযুক্তি সেবা রফতানির বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ডাচ বাংলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে এ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন বক্তারা।
বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সম্পর্ক জোরদার এবং দক্ষ কর্মীদের আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট হলে ‘আন্তর্জাতিক সুযোগ উন্মোচন: বাংলাদেশ-ডাচ আইসিটি শিল্প সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে মূল বক্তব্যে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং ও আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক ড. খন্দকার নাহিন মামুন বলেন, নেদারল্যান্ডসে বর্তমানে ৭৫ হাজারের বেশি আইটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে সাত লাখেরও বেশি দক্ষ কর্মী কাজ করছেন। প্রতিবছর সেখানে প্রায় ৪০ হাজার নতুন দক্ষ প্রযুক্তি পেশাজীবীর প্রয়োজন হয়। দেশটির প্রযুক্তি খাতে গবেষণায় বছরে ৮ থেকে ১০ বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ করা হয়, যা তাদের মোট উৎপাদনের উল্লেখযোগ্য অংশ। এই বিশাল বাজার ও বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ দক্ষ মানবসম্পদ ও প্রযুক্তি সেবা রপ্তানি করতে পারে।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হান্নান চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে চাহিদাভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়টি কাজ করছে। নেদারল্যান্ডসের বাজারকে লক্ষ্য করে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে এনএসইউ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
সেমিনারের বিশেষ ডায়ালগ অধিবেশনে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ডিজিবক্সের প্রধান নির্বাহী রেজোয়ানুল হক জামি বলেন, তৈরি পোশাক খাতের সাফল্য যেভাবে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত, প্রযুক্তি খাতের ক্ষেত্রে তা তেমনভাবে হয়নি। বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে যে মেধা, দক্ষতা ও সম্ভাবনা রয়েছে, তা বিশ্ববাজারে যথাযথভাবে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে।
অন্যান্য আলোচকরা বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার, আইটি খাতের উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বক্তারা দুই দেশের মধ্যে একটি শক্তিশালী ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের আইটি দক্ষ তরুণদের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে যৌথ উদ্যোগের ওপর জোর দেন।
ডাচ বাংলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন মামুনের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হান্নান চৌধুরী, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. রোকনুজ্জামান, নেক্সক্রাফট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহরিয়ার খান, নেদারল্যান্ডসের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সিসকোর আইওটি সেলস চ্যানেল লিড মুরাদ মুহৌতি, মাইন্ডশেপারের প্রধান নির্বাহী শাহিনুর ইসলাম, আইসিটি অলিম্পিয়াড বাংলাদেশের ট্রাস্টি সদস্য নিউটন বি এ ওয়াহিদ, জাপানের মিয়াজাকি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল মালেক, ডাটা সফটের প্রেসিডেন্ট মো. মঞ্জুর মাহমুদ, এবিএন এমরোর আইটি চ্যাপ্টার লিড ইমরান হাশিমসহ সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা।
