ইতালিতে উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে মাদারীপুরের হাসান বেপারীকে লিবিয়ায় আটকে রেখে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে দায়ের করা চাঞ্চল্যকর মানবপাচার মামলার প্রধান আসামি ইমরান খানকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৮, সিপিসি-৩, মাদারীপুর ক্যাম্প ও এসআরবি-৭, সিপিসি-৩, চান্দগাঁও, চট্টগ্রামের সদস্যরা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলার বাকলিয়া থানাধীন দারুল আমান আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ইমরান খান চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ছনহরা চাটরা গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মো. বাচা মিয়া।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ইমরান খান ও তার সহযোগীরা বৈধ স্পন্সর ভিসার মাধ্যমে হাসান বেপারীসহ কয়েকজনকে ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখান। এ উদ্দেশ্যে ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর মাদারীপুরের পূর্ব সিলারচরে এজাহারকারীর শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে নগদ ৮ লাখ টাকা ও ভিকটিমের মূল পাসপোর্ট গ্রহণ করেন তারা।
পরে হাসানকে ইতালির পরিবর্তে লিবিয়ায় পাঠিয়ে অজ্ঞাতনামা একটি মাফিয়া চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে তাকে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও কলে স্বজনদের দেখিয়ে তার মুক্তির জন্য মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, হাসানকে জীবিত উদ্ধারের আশায় তার স্বজনরা বিভিন্ন সময়ে নগদ ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে আসামিদের মোট ৫৬ লাখ টাকা দেন। এরপরও তাকে মুক্তি না দিয়ে আরও টাকা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে টাকা ফেরত ও হাসানকে দেশে ফিরিয়ে আনার কথা বলা হলে ইমরান খান পূর্বের লেনদেন অস্বীকার করে হুমকি দেন এবং যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
বর্তমানে হাসান বেপারী জীবিত আছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য না পাওয়ায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে মানবপাচার, প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ ও জীবনহানির আশঙ্কায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়। পরে হাসানের ভাই বাদী হয়ে মাদারীপুর সদর থানায় মানবপাচার মামলা দায়ের করেন।
ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হলে মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় এসআরবি-৮, সিপিসি-৩, মাদারীপুর ক্যাম্পের একটি দল আসামিদের গ্রেপ্তারে ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি-৮, সিপিসি-৩, মাদারীপুরের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. কামরুল হাসান বলেন, “গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে মানবপাচার মামলার প্রধান আসামি ইমরান খানকে চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে মাদারীপুর সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
গ্রেপ্তার ইমরান খানকে মাদারীপুর সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।