গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ১৩২ নং নাটগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্মাণাধীন বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র ভবনের ছাদ ঢালাইয়ে কাদা ও ডাস্ট যুক্ত পাথর ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
ভবনটি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে LGED-এর RIVER প্রকল্পের আওতাধীন। প্রকল্পের নাম- "৬৭ টি স্কুল কাম বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র ভবন এবং তৎসংলগ্ন সংযোগ সড়ক নির্মাণ"। প্যাকেজ নং- LGED/RIVER/GOPAL/21-22/NW-11, মেয়াদ ৯১০ দিন। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এন ডি ই (NDE)।
গতকাল রবিবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে ছাদ ঢালাই শুরু হয়। শুরুতে সাইটে উপস্থিত ছিলেন উপ-প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমান চঞ্চল, সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (প্রকল্প) সবুজ আহম্মেদ, ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট জামিল হোসেন ও সফিকুল আলম এবং কোম্পানির সাইট ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল।
আসরের আজানের পর উপ-প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমান চঞ্চল, ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সফিকুল আলম এবং কোম্পানির সাইট ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল সাইট ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ উঠে।
রবিবার রাত ৮টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (প্রকল্প) সবুজ আহম্মেদ এবং ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট জামিল হোসেন সাইটে উপস্থিত ছিলেন, তবে ঢালাইয়ে ব্যবহৃত পাথরে অতিরিক্ত ডাস্ট ও কাদার উপস্থিতি রয়েছে। এ সময় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এন ডি ই কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো লোক সাইটে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
পরে ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট শফিকুল আলমকে ফোন দিলে তিনি ৩০ মিনিটের মধ্যে সাইটে উপস্থিত হন। তিনি জানান, পাশের বাজারে ওষুধ আনতে গিয়েছিলেন। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুলকে ফোনকল দিয়ে এবং ৩ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা উপ-প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমান চঞ্চলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সারাদিন তিনি সাইটে ছিলেন। সন্ধ্যার আগে ৪ জন লোক অর্থাৎ উপজেলা এলজিইডি'র ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট জামিল হোসেন, শফিকুল আলম, সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (প্রকল্প) সবুজ আহম্মেদ এবং কোম্পানির সাইট ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুলকে রেখে তিনি সাইট ত্যাগ করেন। তবে সাইটে ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সফিকুল আলম এবং কোম্পানির সাইট ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল না থাকার বিষয়টি অবিশ্বাস্য বলে তিনি দাবি করেন।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এভাবে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ঢালাই হলে ভবনের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা থেকে যায়। এ বিষয়ে LGED-এর নির্বাহী প্রকৌশলীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
সম্পাদক ও প্রকাশক- মেহেদী হাসান
Copyright © 2026 Livenews24bd সত্যের সাথে প্রতিদিন. All rights reserved.