
রোমের কনসার্ট শেষ করে দেশে ফেরার আগে এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কে জড়ালেন জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘নগর বাউল’-এর প্রধান ভোকালিস্ট জেমস ও তাঁর সফরসঙ্গীরা। ইতালির রোমের একটি হোটেলের কক্ষ অগোছালো ও নোংরা করে রেখে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে। এমনকি হোটেল কর্তৃপক্ষকে কিছু না জানিয়েই তাঁরা কক্ষ ছেড়ে চলে গেছেন বলে জানা গেছে।
গত রবিবার (১৬ আগস্ট) রোমে একটি কনসার্টে অংশ নিয়েছিলেন জেমস ও তাঁর টিম। সে সময় তাঁরা অবস্থান করছিলেন স্থানীয় বেস্ট ওয়েস্টার্ন হোটেলের একটি অ্যাপার্টমেন্টে। কনসার্ট শেষে তাঁরা হোটেল ত্যাগ করার পরপরই শুরু হয় বিপত্তি
সামাজিক মাধ্যমে হোটেল কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় আয়োজক প্রতিনিধি হোসাইন আহমেদ মোয়াজের মধ্যকার একটি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট ভাইরাল হয়েছে। সেখানে হোটেল কর্তৃপক্ষ অ্যাপার্টমেন্টটির কয়েকটি ছবি পাঠিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে। ছবিগুলোতে দেখা যায় কক্ষের মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ব্যবহৃত পানির বোতল ও নানা রকম বর্জ্য। রান্নাঘরের সিঙ্ক অপরিষ্কার থালা-বাসনে ভর্তি এবং তার পাশেই পড়ে রয়েছে ভাঙা কাঁচা ডিম। কক্ষের মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ব্যবহৃত পানির বোতল ও নানা রকম বর্জ্য।
হোটেল কর্তৃপক্ষের পাঠানো বার্তায় জানানো হয়েছে, অতিথিরা কক্ষ ত্যাগ করার পর সেটির অবস্থা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য ছিল না। কক্ষটি পরিচ্ছন্নতার জন্য হোটেল কর্তৃপক্ষ ন্যূনতম ২০০ ইউরো অতিরিক্ত ফি দাবি করেছে। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে এই হোটেলে পুনরায় রুম বুকিং করতে হলে বকেয়া পরিশোধ করতে হবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
এদিকে জেমসের ম্যানেজার রবিন মাহমুদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন ইতালির অনুষ্ঠান আয়োজক হোসাইন আহমেদ মোয়াজ। আয়োজকের দাবি, কনসার্টের অগ্রিম অর্থ এবং টিকিট বিক্রির সম্পূর্ণ টাকা নিজের কাছেই রেখে দেন রবিন। শুধু তাই নয়, অনুষ্ঠান শেষে আয় হিসাব দিতেও অস্বীকৃতি জানান। এছাড়াও, অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে বিপুল অংকের টাকা দেশে পাচার করারও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
ঘটনার জেরে ইতালিয়ান পুলিশ রোমের একটি হোটেলে এসে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলে। তবে পরবর্তীতে কাউকেই কিছু না জানিয়ে জেমস ও রবিন হোটেল ত্যাগ করেন। পতুর্গালেও রবিন একই ধরনের কাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে দাবি করেছেন আয়োজক মোয়াজ।
সম্পাদক ও প্রকাশক- মেহেদী হাসান
Copyright © 2026 Livenews24bd সত্যের সাথে প্রতিদিন. All rights reserved.