
গ্রেপ্তার এনামুল মাতুব্বর রাজৈর উপজেলার বদরপাশা ইউনিয়নের উত্তরপাড়া এলাকার এসাহাক মাতুব্বরের ছেলে। পুলিশের দাবি, তিনি রাজৈর এলাকার মানবপাচারকারী চক্রের অন্যতম মূলহোতা।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীর বাড়ি ও অভিযুক্ত এনামুল মাতুব্বরের বাড়ি একই এলাকায়। সেই সুবাদে তাদের মধ্যে পূর্বপরিচয় ও বিশ্বাসের সম্পর্ক ছিল। ভুক্তভোগী ইতালি যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে এনামুল ও তার সহযোগীরা তাকে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখান। তাদের এক নিকট আত্মীয় দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন এবং তার মাধ্যমে স্পন্সর ভিসায় ইতালি পাঠিয়ে উচ্চ বেতনে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে ২২ লাখ টাকা দাবি করা হয়।
তাদের কথায় বিশ্বাস করে বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ভুক্তভোগী। পরে ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর সকাল ১০টার দিকে এনামুলের লোকজন রাজৈর থানার পূর্ব স্বরমঙ্গল এলাকায় ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে নগদ ২২ লাখ টাকা ও তার পাসপোর্ট গ্রহণ করেন।
এরপর ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি ভুক্তভোগীকে ইতালির পরিবর্তে লিবিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে এনামুল নিজেই তাকে রিসিভ করে নিজের বাসায় নিয়ে রাখেন। কয়েক দিন পর আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী মাফিয়া চক্রের সদস্যদের কাছে তাকে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
পুলিশ জানায়, এরপর লিবিয়ায় অবস্থানরত ওই চক্রের সদস্যরা ভুক্তভোগীকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালাতে থাকে এবং মুক্তিপণ হিসেবে তার পরিবারের কাছে টাকা দাবি করে। ভুক্তভোগীকে মুক্ত করার জন্য তার স্বজনরা বিভিন্ন সময় এনামুলকে আরও ২০ লাখ টাকা দেন। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও ভুক্তভোগীকে মুক্ত করা হয়নি। বরং তাকে জিম্মি রেখে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়।
একপর্যায়ে মাফিয়া চক্রের সদস্যদের কাছ থেকে কৌশলে পালিয়ে লিবিয়ায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM)-এর সহায়তা নেন ভুক্তভোগী। পরে গত ২৮ এপ্রিল তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
এদিকে ভুক্তভোগী লিবিয়ায় অবস্থানকালে তাকে মুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনার কথা বলে এনামুল তার পরিবারের কাছ থেকে একটি কথিত আপস-মীমাংসার মাধ্যমে ভুক্তভোগীর মা মাকসুদা আক্তারের কাছ থেকে স্ট্যাম্প গ্রহণ করে নিজের কাছে রেখে দেন বলেও মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রাজৈর থানায় মানবপাচারের অভিযোগে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। পরে মাদারীপুর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এনামুল মাতুব্বরকে গ্রেপ্তার করে।
মাদারীপুর সহকারি পুলিশ সুপার (শিবচর সার্কেল) মোঃ সালাহ উদ্দিন কাদের বলেন, “ইতালি পাঠানোর কথা বলে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ২২ লাখ টাকা ও পাসপোর্ট নেওয়া হয়। পরে তাকে ইতালির পরিবর্তে লিবিয়ায় পাঠিয়ে সেখানে মানবপাচারকারী মাফিয়া চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীকে জিম্মি করে তার পরিবারের কাছ থেকে আরও টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত এনামুল মাতুব্বরকে ডিবির বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “গ্রেপ্তার আসামিকে বিধি মোতাবেক আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তার পিসিপিআর যাচাই করে একটি মানবপাচার মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। মানবপাচারকারী, মাদক কারবারি, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজসহ সব ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
পুলিশের পক্ষ থেকে বিদেশ যেতে ইচ্ছুকদের দালাল বা অপরিচিত ব্যক্তির প্রলোভনে না পড়ে বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশ যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক- মেহেদী হাসান
Copyright © 2026 Livenews24bd সত্যের সাথে প্রতিদিন. All rights reserved.