
আমির-মহাসচিবসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাতের পরদিনই জুলাই জাদুঘরে নেতাকর্মীদের ভাস্কর্য স্থাপন ঘিরে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে কওমি মাদরাসাভিত্তিক আলোচিত সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। এই ভাস্কর্য অপসারণ না করলে আলেম সমাজ নীতি ও আকিদা রক্ষায় নীরব দর্শক হয়ে থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (১০ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান এসব কথা বলেন।
গত ৫ আগস্ট গণভবনে উদ্বোধন করা জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের অবয়বে ভাস্কর্য স্থাপন ঘিরে আলোচনা চলছে। এর মধ্যেই হেফাজতের কয়েকজন নেতা বিচ্ছিন্নভাবে বক্তব্য দিয়েছেন। এবার হেফাজত সাংগঠনিকভাবে নিজেদের অবস্থান জানালো।
জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের অবয়বে ভাস্কর্য স্থাপনকে শরিয়তের বিধানের লঙ্ঘন এবং আলেমদের আত্মত্যাগের সঙ্গে চরম বৈপরীত্য ও উপহাস বলে মন্তব্য করেছে সংগঠনটি। জাদুঘর থেকে এসব ভাস্কর্য অবিলম্বে অপসারণের দাবি জানিয়েছে হেফাজত।
বিবৃতিতে হেফাজতের শীর্ষ দুই নেতা বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে যেকোনো মানুষের ভাস্কর্য নির্মাণ সম্পূর্ণ হারাম ও অবৈধ। ব্যক্তির মর্যাদা, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা অবদান যত বড়ই হোক না কেন, শরিয়তের বিধান উপেক্ষা করে ভাস্কর্য নির্মাণের সুযোগ নেই।
তারা বলেন, যারা জীবনভর ইসলামের আকিদা, ঈমান ও ইসলামি মূল্যবোধ রক্ষায় ভূমিকা রেখেছেন, তাদের স্মৃতি সংরক্ষণের নামে ভাস্কর্য নির্মাণ করে ইসলামি বিধানের লঙ্ঘন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অতীতে ভাস্কর্য ও মূর্তি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে যেসব আলেম জীবন দিয়েছেন ও কারাবরণ করেছেন, আজ তাদের অবয়বেই ভাস্কর্য নির্মাণ করা মর্মান্তিক ও নজিরবিহীন বৈপরীত্য।

হেফাজতের আমির ও মহাসচিব বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, শহীদ ও আন্দোলনকারীদের আত্মত্যাগ জাতি অবশ্যই শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তবে সেই স্মৃতি সংরক্ষণের পদ্ধতি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও ইসলামি মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়া উচিত নয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণে ভাস্কর্যের পরিবর্তে দুটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। সংগঠনটির প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে—আন্দোলনের সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস তুলে ধরতে জাদুঘরে লিখিত ইতিহাস, প্রামাণ্য দলিলপত্র ও সংশ্লিষ্ট নথি সংরক্ষণ এবং প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা। এ ছাড়া ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর ও ২০২১ সালের মোদি-বিরোধী আন্দোলনসহ ইসলামের জন্য আলেম ও তৌহিদি জনতার ত্যাগের ইতিহাস এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস জাতীয় পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে হেফাজতের নেতৃদ্বয় বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবায়ে কেরামের কোনো ভাস্কর্য ছিল না; অথচ তাদের আদর্শ আজও বিশ্বজুড়ে আলো ছড়াচ্ছে। তাই ভাস্কর্য নির্মাণের পরিবর্তে আত্মত্যাগকারী আলেম ও আন্দোলনকারীদের ইতিহাস যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান তারা।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কোনো ধরনের গড়িমসি না করে জুলাই জাদুঘর থেকে ভাস্কর্যগুলো দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়ে হেফাজতের নেতৃদ্বয় বলেন, অন্যথায় আলেম সমাজ তাদের নীতি ও আকিদা রক্ষায় নীরব দর্শক হয়ে থাকবে না।
প্রসঙ্গত, গতকাল রোববার চট্টগ্রাম সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদরাসায় হেফাজতে ইসলামের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে মতবিনিময়ে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে ৯ দফা দাবি জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশকে এগিয়ে নিতে হেফাজতকে পাশে চান বলে জানান। পরে প্রধানমন্ত্রী হাটহাজারীতে হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী এবং পরবর্তী আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর কবরও জিয়ারত করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক- মেহেদী হাসান
Copyright © 2026 Livenews24bd সত্যের সাথে প্রতিদিন. All rights reserved.