
মাঠের উত্তাপের মাঝে কয়েক সেকেন্ডের জিরিয়ে নেওয়া, এক চুমুক পানি পানের বিরতি কে জানত, ফুটবলের মহাযজ্ঞে এই সামান্য সময়টুকুই কাল হয়ে দাঁড়াবে ব্রাজিলের জন্য? ব্রাজিলের কোটি ফুটবলপ্রেমীর ষষ্ঠ ট্রফি জয়ের স্বপ্ন যে একটি সাধারণ স্ট্র্যাটেজিক ভুলের চোরাবালিতে তলিয়ে যাবে, তা হয়তো ভাবেননি সেলেসাওদের মাস্টারমাইন্ড কার্লো আনচেলত্তিও। তবে ম্যাচ শেষে আক্ষেপের চাদর প্রকাশ না করলেও, বিশ্বকাপ শেষে অবশেষে এ নিয়ে মুখ খুলেছেন কার্ল আনচেলত্তি।
সোজাসাপ্টা সত্যটাই মেনে নিলেন ইতালিয়ান এই কোচ। তার মতে, নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধের সেই পানি বিরতির সময় ভুল সিদ্ধান্তের মাশুল দিয়েই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে সেলেসাওরা।
নরওয়ের কাছে ২-১ গোলের ধাক্কায় নকআউট পর্ব থেকেই অশ্রুসজল বিদায় নিতে হয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। এর মাধ্যমে ২০০২ সালের পর বিশ্বজয়ের যে দীর্ঘ প্রতীক্ষা, তা আরও দীর্ঘায়িত হলো। ইএসপিএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি জানান, টুর্নামেন্টের লজিস্টিকস, অনুশীলন মাঠ কিংবা টিম হোটেল; সব পরিকল্পনামাফিকই এগোচ্ছিল। এমনকি স্কোয়াডে থাকা ২৬ জন ফুটবলারের ওপরও তার আস্থা ছিল পূর্ণ।
কিন্তু বিশ্বকাপের আগে ও টুর্নামেন্ট চলাকালে এদের মিলিতাও, রদ্রিগো, এস্তেভাও, ওয়েসলি ও রাফিনিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ তারকাদের একের পর এক চোট পুরো ছক এলোমেলো করে দেয়।
সব পরিকল্পনা এলোমেলো হলেও নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ব্রাজিল সুবিধাজনক অবস্থাতেই ছিল। তবে ম্যাচের আসল নাটকটা তৈরি হয় দ্বিতীয়ার্ধের পানি বিরতিতে। আনচেলত্তি স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমার মনে হয়, নরওয়ের বিপক্ষে পানি বিরতির সময়ই আমরা বিশ্বকাপ হারিয়েছি। ওই মুহূর্ত পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতেই ছিল।’
নিজের ভুল স্বীকার করে ব্রাজিল কোচ বলেন, ‘হয়তো ওটাই ছিল আমার জীবনের অন্যতম বড় ভুল। বাস্তবে আমরা নিয়ন্ত্রণ হারাইনি, কিন্তু আমার মনে হয়েছিল পরিস্থিতি হাতছাড়া হচ্ছে। আমার সেই পরিবর্তনের পরপরই হলান্ড গোল করে বসে। আর নকআউট পর্বের শেষ মুহূর্তে গোল হজম করলে ঘুরে দাঁড়ানো কতটা পাহাড়সম কঠিন, তা সবারই জানা।’
ম্যাচের একেবারে শেষপ্রান্তে নেইমারকে মাঠে নামানো নিয়ে ফুটবল বিশ্লেষকদের তোপের মুখে পড়তে হয়েছে আনচেলত্তিকে। অনেকের দাবি, নেইমারকে নামাতে গিয়ে দলের ট্যাকটিক্যাল ব্যালেন্সটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তবে নিজের এই সাহসী সিদ্ধান্তে কোনো অনুশোচনা নেই এই হাই-প্রোফাইল কোচের। তিনি জানান,‘না, আমার কোনো আক্ষেপ নেই। রায়ানকে তুলে এন্দ্রিককে ডানদিকে খেলিয়েছিলাম। আমার বিশ্বাস ছিল, ৭০ মিনিটের পর নেইমার এমন কিছু করতে পারে, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেবে।’
আনচেলত্তি আরও স্বীকার করেন, নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতেই হয়তো তিনি নেইমারকে একটু আগেই মাঠে নামিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘কোচ হিসেবে এমন মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেয়া খুব কঠিন। প্রচণ্ড চাপের মধ্যে সব সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয় না।’
শেষে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘নেইমারকে নামানো উচিতই ছিল। সে ভালো অনুশীলন করেছে, ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিল এবং দারুণ মানসিকতা দেখিয়েছে। আমি মনে করি, সে দলকে সাহায্য করেছে। তবে তাকে নামানোর জন্য দলের কাঠামো বদলানোর প্রয়োজন ছিল না।’
সম্পাদক ও প্রকাশক- মেহেদী হাসান
Copyright © 2026 Livenews24bd সত্যের সাথে প্রতিদিন. All rights reserved.