বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াইগুলোর একটি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল। এমন হাইভোল্টেজ ম্যাচের দায়িত্ব পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রেফারি ইসমাইল এলফাত। তবে ম্যাচ শুরুর আগেই তাকে ঘিরে ফুটবল অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। কারণ, চলতি বিশ্বকাপে তার কয়েকটি সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যেই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ফলে আটলান্টার এই বড় ম্যাচে তার প্রতিটি বাঁশি থাকবে বাড়তি নজরে।
আগামী বুধবার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার সেমিফাইনাল ম্যাচ পরিচালনা করবেন যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞ রেফারি ইসমাইল এলফাত। ৪৪ বছর বয়সী এই রেফারি কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে চতুর্থ রেফারির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে এবারের বিশ্বকাপে তার কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যা এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় জন্ম নেওয়া এলফাত পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং মার্কিন নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি রেফারিংয়ে ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন। বর্তমানে তিনি ফিফার অন্যতম অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক রেফারি হিসেবে পরিচিত।
চলতি বিশ্বকাপে এলফাত তিনটি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। এর মধ্যে নেদারল্যান্ডস–জাপান এবং স্পেন–উরুগুয়ে ম্যাচে তার কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা হয়। বিশেষ করে উরুগুয়ের বিপক্ষে স্পেনের ইনাকি উইলিয়ামসের ওপর রদ্রিগো বেনটানকুরের কঠিন ট্যাকেলে লাল কার্ড না দেখিয়ে হলুদ কার্ড দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম।
এছাড়া ব্রাজিল ও নরওয়ের রাউন্ড অব সিক্সটিন ম্যাচেও তার একটি সিদ্ধান্ত বিতর্ক তৈরি করে। নরওয়ের ক্রিস্টোফার আয়েরের করা ফাউল প্রথমে তিনি খেয়াল না করলেও পরে ভিএআরের সহায়তায় সেটি পেনাল্টি হিসেবে দেওয়া হয়। ওই ম্যাচে ব্রাজিলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ও দেখা যায়।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসির কাছে এলফাত একেবারে নতুন নন। ২০২৩ সালের লিগস কাপের ফাইনালে ইন্টার মিয়ামির শিরোপা জয়ের ম্যাচে তিনিই ছিলেন প্রধান রেফারি। এছাড়া টোকিও অলিম্পিকেও আর্জেন্টিনার একটি ম্যাচ পরিচালনা করেছিলেন তিনি। ফলে আর্জেন্টিনা দলের অনেক খেলোয়াড়ই তার রেফারিং সম্পর্কে পরিচিত।
বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড লড়াই সবসময়ই বাড়তি উত্তেজনার জন্ম দেয়। এমন ম্যাচে নিরপেক্ষ ও নিখুঁত সিদ্ধান্ত দেওয়ার দায়িত্বও থাকে অনেক বেশি। তাই এলফাতের প্রতিটি সিদ্ধান্ত এবারও থাকবে দর্শক, খেলোয়াড় এবং ফুটবল বিশ্লেষকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে।
এই সেমিফাইনালে ইসমাইল এলফাতকে সহায়তা করবেন সহকারী রেফারি কোরিয়ে পার্কার ও কাইল অ্যাটকিনস। চতুর্থ রেফারির দায়িত্বে থাকবেন ইতালির মাউরিজিও মারিয়ানি। এখন দেখার বিষয়, বিশ্বকাপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে বিতর্ক এড়িয়ে কতটা সফলভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন ইসমাইল এলফাত।
