কালকিনি সংবাদদাতা:
মাদারীপুরের কালকিনিতে প্রকাশ্য দিবালোকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষককে রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম ও হাত-পা ভেঙে দিয়েছে প্রধান শিক্ষকের ভাই।
আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে এই হামলার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে উপজেলার সাধারণ শিক্ষকবৃন্দ ও এলাকাবাসী।
আক্রান্ত শিক্ষকের নাম ইমাম হোসেন রাজন শিকদার। তিনি কালকিনি পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ রাজদী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মাজেদ শিকদারের ছেলে এবং ১৫৮ নং চর আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
গত (২রা জুলাই) বৃহস্পতিবার বিকেলে স্কুল ছুটি শেষে নিজ বাড়ি ফিরছিলেন সহকারী শিক্ষক রাজন শিকদার। পথিমধ্যে আলীপুর- সস্তাল খেয়া ঘাটে ওত পেতে থাকা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিপি বেগমের ভাই মিলন শিকদার তার ১০-১২ জন সহযোগী দেশি অস্ত্র ও রড নিয়ে রাজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা তাকে বেধড়ক পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে এবং একপর্যায়ে তার হাত পা ভেঙে রাস্তায় ফেলে রাখে। ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে কালকিনি উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজনকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে তিনি পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ভুক্তভোগী ও স্বজনদের অভযোগ, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যের টিফিন বিতরণকে কেন্দ্র করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিপির সাথে সহকারী শিক্ষক রাজনের বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এছাড়াও লিপি বেগমের কিছু অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রায়ই রাজন প্রতিবাদ করতো। (২ রা জুলাই) বৃহস্পতিবার দুপুরে এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাক্বিতণ্ডা হয়। যার প্রেক্ষাপটে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিপি বেগম তার আপন ভাই মিলন মোল্লাকে দিয়ে সহকারী শিক্ষক রাজন শিকদারের ওপর হামলা করায়।
এই ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিপি বেগম ও তার ভাই মিলন মোল্লা সহ কয়েকজনকে আসামি করে কালকিনি থানায় একটি মামলা দায়ের করে ভুক্তভোগী পরিবার।
আজকের মানববন্ধনে উপস্থিত শিক্ষক নেতারা বলেন সহকারী শিক্ষক ইমাম হোসেন রাজনের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় জড়িত মিলন মোল্লা সহ তার সহযোগীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনানুগ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। যদি না করা হয় শিক্ষক সমাজ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।
তারা আরো বলেন উপজেলার সকল শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চত করতে হবে যাতে তারা বিদ্যালয় নির্বিঘ্নে পাঠদান করতে পারে। এই ঘটনার সাথে যদি উক্ত স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিপি বেগম জড়িত থাকে তাকেও আইনের আওতায় আনতে হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন কালকিনি উপজেলা প্রথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি শাহ আলম বেপারী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস শিকদার, গোলাম কিবরিয়া, জসিমউদ্দিন, আনিসুর রহমান, শহিদুল ইসলাম, ইউসুফ আলী, সবুজ শিকদার, বেলায়েত হোসেন, শাহাদাৎ হোসেন, মেহেদী হাসান, বকুল বেগম, ডায়নাসহ কালকিনি উপজেলার সাধারণ শিক্ষকবৃন্দরা।
একই সময়ে এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষককে প্রকাশ্যে হামলা করে গুরুতর আহত করার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তারা অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং মানুষ গড়ার কারিগরের ওপর এমন বর্বরোচিত ও নৃশংস হামলার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। স্থানীয় এলাকাবাসী এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে কালকিনি থানার ওসি জহিরুল আলম বলেন, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক- মেহেদী হাসান
Copyright © 2026 Livenews24bd সত্যের সাথে প্রতিদিন. All rights reserved.