২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিদায়টা যে এতটা নির্মম এবং একপেশে হবে, তা হয়তো কট্টর নরওয়েজিয়ান সমর্থকও ভাবেননি। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে নরওয়ের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার ম্যাচটি শুধু স্কোরের কারণেই স্মরণীয় থাকবে না; বরং তা ফুটবল ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কারণে। ‘জোগো বোনিতো’ বা সুন্দর ফুটবলের ধারক হিসেবে পরিচিত ব্রাজিলের কাছ থেকে এদিন বলই কেড়ে নিয়েছিল নরওয়ে!
ইএসপিএন এফসি এর ম্যাচ ট্র্যাকিং ডাটা অনুযায়ী, পুরো ম্যাচে ব্রাজিলের বল পজেশন বা বল দখল ছিল মাত্র ৩৪ শতাংশ! এটি ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্রাজিলের যেকোনো ম্যাচে সর্বনিম্ন বল পজিশনের নতুন রেকর্ড। সাম্বা ফুটবলের ছন্দকে মাঝমাঠেই পাসের বন্যায় ভাসিয়ে দিয়ে এই লজ্জার ইতিহাস উপহার দিয়েছে নরওয়ে।
বেটিং বিশ্ব থেকে শুরু করে সাধারণ ফুটবল পণ্ডিত- সবাই ব্রাজিলকে ফেভারিট মেনে বাজি ধরেছিল। কিন্তু মাঠের ভেতরের পরিসংখ্যান বলছে, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করেছে নরওয়ে। প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক্যাল ক্যাটাগরিতেই তারা ব্রাজিলকে পেছনে ফেলেছে।
নরওয়ের ফুটবলাররা পুরো ম্যাচে ব্রাজিলের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি পাস আদান-প্রদান করেছেন। শুধু পাস খেলাই নয়, পাস সফলতার হারেও ব্রাজিলের চেয়ে ৩ শতাংশ এগিয়ে ছিল নরওয়ে।
ব্রাজিল মোট ১২টি শট নিলেও মাত্র ৪টি ছিল অন-টার্গেট। অন্যদিকে নরওয়ে ৯টি শট নিলেও তাদের লক্ষ্যে থাকা শটের শতকরা হার ছিল অনেক বেশি এবং খুনে মেজাজে তারা সুযোগগুলো কাজে লাগিয়েছে।
নরওয়ের এই ঐতিহাসিক আধিপত্যকে স্কোরবোর্ডে রূপ দেওয়ার মূল কারিগর ছিলেন দুই তরুণ তুর্কি- এরলিং হালান্ড এবং আন্দ্রেয়াস শ্যাল্ডেরুপ। ম্যাচের দুটি গোলই এসেছে হালান্ডের পা থেকে, আর দুটি গোলের পেছনেই নিখুঁত পাস বা অ্যাসিস্টের জোগানদাতা ছিলেন শ্যাল্ডেরুপ।
এই জোড়া গোলের সুবাদে নরওয়ের জার্সিতে নিজের খেলা সর্বশেষ টানা ১৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচেই গোল করার এক অবিশ্বাস্য ও অতিমানবীয় রেকর্ড ধরে রাখলেন ম্যানচেস্টার সিটির এই গোলমেশিন।
২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেই বিশ্বজয়ের অন্যতম হট-ফেভারিটকে বিদায় করে টুর্নামেন্টের ব্র্যাকেটে এক বিশাল সুনামি বইয়ে দিয়েছে নরওয়ে। আগামী শনিবার (১১ জুলাই) মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালের টিকিট কাটার লড়াইয়ে নামবে তারা।
আজ রাতে মেক্সিকো সিটির বাতাসে স্বাগতিক মেক্সিকো এবং থমাস টুখেলের ইংল্যান্ডের মধ্যকার রাউন্ড অব ১৬-র হাইভোল্টেজ ম্যাচের বিজয়ী দলই হবে কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের প্রতিপক্ষ। তবে প্রতিপক্ষ যে-ই হোক না কেন, টেক্সাস ও নিউ জার্সির মাঠ কাঁপানো এই নরওয়েজিয়ান ভাইকিংদের রুখতে যে এখন যেকোনো দলকেই অতিরিক্ত ছক কষতে হবে, তা বলাই বাহুল্য।
