
লক্ষ্মীপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীসহ একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন নারী এবং বাকি তিনজন তার মেয়ে। পরে ঘাতককেও পিটিয়ে হত্যা করেছে জনতা। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে। ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই হত্যার নেপথ্যে কী সেটা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে স্থানীয়দেরও।
এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আবু তারেক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, ঠিক কী কারণে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, তা আপাতত জানা যায়নি। তদন্ত করে বিস্তারিত জানানো হবে বলে তিনি জানান।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে জেলার রায়পুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার ভাড়া বাসায় মা ও তার তিন মেয়েকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে অন্তর মজুমদার নামে এক যুবক।
ঘটনার পর স্থানীয়রা মা ও তিন মেয়েকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মা এবং দুই মেয়েকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহতাবস্থায় আরেক মেয়েকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু তাকেও বাঁচানো যায়নি।
নিহতদের বাড়ি কুমিল্লায়। তারা রায়পুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকা কয়েক বছর ধরে ভাড়া থাকতেন। নিহতদের মধ্যে সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। আরেক বোন ইকরা পড়তেন রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে।
তবে কী কারণে মা এবং তার তিন মেয়েকে এভাবে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হলো এবং ঘটনার সঙ্গে অন্তর মজুমদার নামে ওই যুবক ছাড়াও আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা জানাতে পারেননি স্থানীয়রাও।

এদিকে ঘটনার পর উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে গুরুতর আহত হন ঘাতক যুবক অন্তর মজুমদার। পরে তাকে পুলিশে দেওয়া হয়। পুলিশ তাকে সদর হাসপাতালে নিলে তিনিও মারা যান।
এ তথ্য নিশ্চিত করেন সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অরুপ পাল।
ঘাতক ও নিহত অন্তর মজুমদার নোয়াখালীর সূবর্নচরের কার্তিক মজুমদারের ছেলে বলে জানা যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক বছর আগে শাহীনুরের স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তিনি রায়পুরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। প্লাস্টিক পণ্য হকারি করে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতো পরিবারটি। কিন্তু ৫ সদস্যের পরিবারের চারজনই এখন পরপারে।
জানা যায়, ঘাতক যুবক অন্তর মজুমদার কয়েক মাস আগে নিহত শাহীনুরদের সঙ্গে একই বিল্ডিংয়ের ভাড়া থাকতেন। তিনি ফল বিক্রেতা ছিলেন। তার সঙ্গে শাহীনুরদের পরিবারের কোনো ঝামেলা ছিল কি না, সেটাই জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক- মেহেদী হাসান
Copyright © 2026 Livenews24bd সত্যের সাথে প্রতিদিন. All rights reserved.