
আইপিএলের এবারের আসর থেকে লক্ষ্ণৌ ছিটকে গেছে আরও আগেই। গতকাল পাঞ্জাব কিংসের (পিবিকেএস) বিপক্ষে লক্ষ্ণৌয়ের ম্যাচটি তাই ছিল নিয়মরক্ষার। আর শেষ ম্যাচেই অবশেষে লক্ষ্ণৌয়ের জার্সিতে অভিষেক হলো ২৬ বছর বয়সী অলরাউন্ডার অর্জুন টেন্ডুলকারের। আর ছেলের এই বিশেষ দিনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী ও আবেগঘন পোস্ট করেছেন শচীন টেন্ডুলকার।
আইপিএল ২০২৬ অর্জুনের ক্যারিয়ারের জন্য একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট, কারণ ক্যারিয়ারে এবারই প্রথম মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের (এমআই) গণ্ডি পেরিয়ে লক্ষ্ণৌয়ের হয়ে মাঠ মাতালেন তিনি। নিলামের আগেই এক বিশেষ ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে তাকে মুম্বাই থেকে লক্ষ্ণৌয়ে নিয়ে এসেছিল এলএসজি কর্তৃপক্ষ। পুরো মৌসুম সাইডবেঞ্চে বসে কাটানোর পর একদম শেষ ম্যাচে এসে ভাগ্য খুলেছে এই বাঁহাতি বোলিং অলরাউন্ডারের। ম্যাচে প্রথমে ব্যাট হাতে নামার সুযোগ পেয়ে ৫ বলে ৫ রান করেন তিনি।
ব্যাট হাতে বড় কিছু করতে না পারলেও বল হাতে নিজের জাত চিনিয়েছেন অর্জুন। লক্ষ্ণৌ ম্যাচটি হারলেও দলের অন্য সব বোলারদের চেয়ে সবচেয়ে কিপটে বোলিং করেছেন তিনি। ৪ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে ১ উইকেট নেওয়া অর্জুনের ইকোনমি রেট ছিল মাত্র ৯, যা লক্ষ্ণৌয়ের বোলারদের মধ্যে সেরা। নিজের প্রথম ওভারেই তিনি উইকেট পেয়ে যেতেন, যদি অধিনায়ক ও উইকেটকিপার ঋষভ পন্ত একটি সহজ ক্যাচ হাতছাড়া না করতেন। তবে পন্তের ক্যাচ মিসের হতাশায় ভেঙে না পড়ে নিজের তৃতীয় ওভারে এক চোখ ধাঁধানো ‘টো-ক্রাশিং’ নিখুঁত ইয়র্কারে পাঞ্জাবের ওপেনার প্রভসিমরন সিংকে এলবিডব্লিউ করে সাজঘরে পাঠান অর্জুন।
ছেলের এই লড়াই ও নীরব পরিশ্রমের মূল্যায়ন করে শচীন ফেসবুকে ও এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন, যা মুহূর্তের মধ্যে ক্রিকেট বিশ্বে ভাইরাল হয়ে যায়। অর্জুনের উদ্দেশ্যে শচীন লেখেন, "সাবাশ অর্জুন। পুরো মৌসুম জুড়ে তুমি যেভাবে নিজেকে সামলেছ, সুযোগের জন্য একদম শেষ ম্যাচ পর্যন্ত ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছ এবং নীরবে কাজ করে গেছ তাতে আমি গর্বিত। ক্রিকেট কেবল দক্ষতার নয়, ধৈর্যেরও পরীক্ষা নেয়; আর আজ তুমি দুটোই খুব সুন্দরভাবে সামলেছ। মাটিতে পা রেখে (বিনয়ী থেকে) খেলাটাকে এভাবেই ভালোবেসে যাও।"
সম্পাদক ও প্রকাশক- মেহেদী হাসান
Copyright © 2026 Livenews24bd সত্যের সাথে প্রতিদিন. All rights reserved.