
অনেক সময় দেখা যায় ব্যবহারের অসতর্কতায় ডিপ ফ্রিজে পাহাড় সমান বরফ জমে গিয়েছে। এই অতিরিক্ত বরফ জমার কারণে ফ্রিজের ভেতরের জায়গা কমে যাওয়ার পাশাপাশি কার্যক্ষমতা কমে যায় এবং বিদ্যুৎ বিলও অনেক বেশি আসে।
ফ্রিজ বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিপ ফ্রিজে এই অতিরিক্ত বরফ জমে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো আর্দ্রতা। বাইরের গরম বাতাস যখন ফ্রিজের ভেতরের ঠান্ডা বাতাসের সংস্পর্শে আসে, তখনই তা জমে শক্ত বরফে পরিণত হয়। ফ্রিজ সচল ও দীর্ঘস্থায়ী রাখতে এই অতিরিক্ত বরফ জমার কারণ এবং তা প্রতিরোধের উপায়গুলো জেনে রাখা জরুরি।

ফ্রিজ এবং ফ্রিজারের ভেতরে বরফ তৈরি হওয়া রোধ করতে হলে সবার আগে ভেতরের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এটি করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো রেফ্রিজারেটর এবং ফ্রিজারের দরজা ঘন ঘন না খোলা। প্রয়োজন ছাড়া বারবার ফ্রিজের দরজা খুললে বাইরের গরম ও আর্দ্র বাতাস ভেতরে ঢুকে বরফ জমার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। এছাড়া ফ্রিজের দরজার রাবার বা গ্যাসকেটটি সবসময় বায়ুরোধী আছে কি না তা খেয়াল রাখতে হবে। দরজার রাবার আলগা হয়ে গেলে বা কোথাও ছিঁড়ে গেলে বাইরের হাওয়া অনায়াসে ভেতরে প্রবেশ করে দ্রুত বরফ তৈরি করে।
ফ্রিজারে বরফ জমার আরেকটি বড় কারণ হলো তাপমাত্রা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কমিয়ে রাখা। ফ্রিজারের তাপমাত্রা অতিরিক্ত কম থাকলে ভেতরের বাতাস খুব বেশি ঠান্ডা হয়ে যায় এবং ফ্রিজে রাখা খাবার থেকে আর্দ্রতা শুষে নিয়ে তা দেয়ালে বরফ হিসেবে জমাতে শুরু করে। তাই ফ্রিজারে যাতে অতিরিক্ত বরফ না জমে, সেজন্য ঋতুভেদে ফ্রিজের তাপমাত্রা সঠিক সেটিংসে নির্ধারণ করে রাখা উচিত। বিশেষ করে শীতকালে বা ঠান্ডা আবহাওয়ায় ফ্রিজের থার্মোস্টেটের পাওয়ার কমিয়ে রাখা ভালো।

যদি ফ্রিজে ইতিমধ্যে প্রচুর বরফ জমে গিয়ে থাকে, তবে তা পরিষ্কার বা ডিফ্রস্ট করার জন্য প্রথমে ফ্রিজারের সমস্ত খাবার সাবধানে বের করে নিতে হবে। খাবার বের করার পর ফ্রিজের মূল বিদ্যুৎ সংযোগটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে হবে। সংযোগ বন্ধ করার পর ফ্রিজের দরজা খোলা রাখলে ভেতরের বরফ নিজে থেকেই গলতে শুরু করবে। সাধারণত এক থেকে দুই ঘণ্টা পর বরফ পুরোপুরি গলে গেলে একটি নরম কাপড় দিয়ে ফ্রিজের ভেতরটা ভালো করে মুছে পরিষ্কার করে নিতে হবে। নিয়মিত এই যত্ন ও সঠিক নিয়মে ফ্রিজ ব্যবহার করলে যন্ত্রটি দীর্ঘদিন নতুনের মতো সচল থাকবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক- মেহেদী হাসান
Copyright © 2026 Livenews24bd সত্যের সাথে প্রতিদিন. All rights reserved.