মাদারীপুর প্রতিনিধি।।
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার বহুল আলোচিত ঝুনু আক্তারী হত্যা মামলার প্রধান আসামী তরিকুল হাওলাদার (২৮) কে কুষ্টিয়া থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৮। রবিবার (০৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১টা ১০ মিনিটে কুষ্টিয়ার স্বস্তিপুর ভাদালিয়া বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
র্যাব জানায়, মাদারীপুরের রাজৈর থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামী তরিকুল হাওলাদারকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় যৌথ অভিযানে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে অংশ নেয় র্যাব-৮, সিপিসি-৩, মাদারীপুর এবং র্যাব-১২, সিপিসি-১, কুষ্টিয়ার সদস্যরা।
ঘটনাটি ইতোমধ্যে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের মধ্যে এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
র্যাব জানিয়েছে, এ ধরনের চাঞ্চল্যকর মামলার আসামীদের গ্রেফতারে তাদের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত ঝুনু আক্তারী (স্ত্রী: মিজানুর শেখ) গত ৩ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পাশের মাঠে পেঁয়াজ ও রসুন সংগ্রহ করতে যান। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে দুপুর ২টার দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পাওয়া যায়, একটি পুকুরপাড়ের ঝোপের মধ্যে পলিথিনে ঢাকা অবস্থায় একটি মরদেহ পড়ে আছে, যা পরে ঝুনু আক্তারীর বলে শনাক্ত করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ভিকটিম একটি জমিতে রসুন তুলতে গেলে আসামীদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে আসামীরা তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। প্রধান আসামী তরিকুল হাওলাদার ভিকটিমের গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে লাশ গোপন করতে পুকুরপাড়ের ঝোপে ফেলে রেখে যায়।
র্যাব-৮, সিপিসি-৩, মাদারীপুরের কোম্পানি কমান্ডার পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন বলেন, “চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আমরা প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃত আসামীকে কুষ্টিয়া সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
