নিজস্ব প্রতিবেদক:
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় তৃতীয় লিঙ্গের কয়েকজন সদস্যকে তুলে নিয়ে ইলেকট্রনিক শট দিয়ে মারধর এবং তাদের কাছ থেকে নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই সম্প্রদায়ের অপর একটি দলের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যদের গুরু মা রাবিনা হিজরা কালকিনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জানা গেছে, উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের সূর্যমণি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বুধবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর জেলার হিজরা সম্প্রদায়ের গুরু মা রাবিনা হিজরা সম্প্রতি কালকিনি উপজেলার লক্ষীপুর ও বাঁশগাড়ি ইউনিয়নে কাজ করার অধিকার স্থানীয় গুরু মা সাথী আক্তারের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি তার পাঁচজন শিষ্য—নুপুর, মাহি, নিলা, মেঘলা ও ছামিয়াকে ওই এলাকায় পাঠান।
এসময় অভিযোগ রয়েছে, মুকুল হাজীর নির্দেশে এবং লাবনী হিজরার নেতৃত্বে জুই, দোয়েল, মল্লিকা, প্রিয়াঙ্কা, জ্যোতি, মেঘা ও তুষুসহ একটি দল তাদের সূর্যমণি বাজার এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধর করে এবং তাদের কাছে থাকা নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
ঘটনার বিষয়ে জানতে পেরে রাবিনা হিজরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের বিষয়টি জানাজানি হলে পরে ভুক্তভোগীদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী রাবিনা হিজরা বলেন, “আমার মেয়েদের ছেড়ে দিলেও তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণ ও মোবাইল নিয়ে গেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
এদিকে গুরু মা সাথী আক্তার বলেন, অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার খরচ জোগাতে তিনি তার এলাকার দুটি ইউনিয়ন রাবিনা হিজরার কাছে হস্তান্তর করেন। সে অনুযায়ী রাবিনার লোকজন সেখানে যান।
অভিযুক্ত লাবনী হিজরার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল আলম বলেন, অভিযোগটি পাওয়া গেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক- মেহেদী হাসান
Copyright © 2026 Livenews24bd সত্যের সাথে প্রতিদিন. All rights reserved.