
পঞ্চগড় সংবাদদাতা:
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে এক প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া গ্রামে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে ২৩ বছর বয়সী গৃহবধূ রিংকির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত রিংকির বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী এলাকায়। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দেবীগঞ্জের সোনাহার মোল্লাপাড়া এলাকার আমছের আলীর ছেলে প্রবাসী আলিম ইসলামের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরে তারা অনলাইনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
বিয়ের পর প্রায় আট মাস ধরে রিংকি শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিলেন। তবে স্বামী আলিম ইসলাম দুই বছর ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করায় বিয়ের পরও তাদের সরাসরি দেখা হয়নি। দাম্পত্য সম্পর্ক মূলত মোবাইল ফোনের যোগাযোগেই সীমাবদ্ধ ছিল বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ঘরের ভেতর থেকে ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় রিংকির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সময় ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল বলে দাবি করেন প্রতিবেশীরা। সকালে পরিবারের সদস্যরা কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
জানা গেছে, মৃত্যুর আগের রাতে প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে তার দীর্ঘ সময় কথা হয়। কথোপকথনের এক পর্যায়ে রিংকি আত্মহত্যার ইঙ্গিত দিলে আলিম উদ্বিগ্ন হয়ে স্থানীয় এক প্রতিবেশীকে ফোন করে বিষয়টি জানান। তবে এরপরও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়নি।
স্বজন ও প্রতিবেশীরা বলেন, শ্বশুরবাড়িতে রিংকি স্বাভাবিকভাবেই ছিলেন এবং পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্কেও দৃশ্যমান কোনো বিরোধ ছিল না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে স্বামীকে নিয়ে মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিলেন বলে অনেকে ধারণা করছেন। এই মৃত্যুর পেছনে পারিবারিক, মানসিক নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে।
দেবীগঞ্জ থানা-র পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর চন্দ্র সরকার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত আছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
